ব্রিটেনের রাজনীতিতে উপনির্বাচনের প্রভাব; অভিবাসন রাজনীতিতে নতুন শঙ্কা

ব্রিটিশ দোকানে কাজ করছেন অভিবাসীরা
ব্রিটিশ দোকানে কাজ করছেন অভিবাসীরা | ছবি : সংগৃহীত
0

অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে এমপি পদ ছাড়লেও থেমে নেই নাইজেল ফারাজের রাজনৈতিক লড়াই। বরং উপনির্বাচনের মাধ্যমে তিনি আবারও জনসমর্থন যাচাই করতে চাইছেন। তবে এই পদক্ষেপ ব্রিটেনের অভিবাসন রাজনীতি ও রিফর্ম ইউকের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। শঙ্কা কমছে না অভিবাসী কমিউনিটিগুলোর। অন্যদিকে, দলের পার্লামেন্ট মেম্বারদের সমর্থন পাওয়ায় লেবার পার্টির প্রধান ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

ব্রিটেনে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ এমপি। ফারাজের এ সিদ্ধান্ত শুধু একটি আসন ছাড়ার ঘটনা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্রিটেনের অভিবাসন রাজনীতি ও ভোটের সমীকরণ। দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে আসা ফারাজ এখন আবারও ব্রিটেনের এসেক্সের ক্ল্যাকটন আসনে উপনির্বাচনে তার জনসমর্থনের পরীক্ষা নিতে চাইছেন। প্রশ্ন হলো, এই কৌশল ব্রিটিশ রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে?

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, ‘এখন যদি জনগণ ওভারহোয়েলমিং মেজোরিটিতে তাকে আবার পার্লামেন্টে পাঠায়, তাইলে তো তার শক্তিমত্তা আরও বেশি বাড়বে। এবং সেটা হবে ব্রিটিশ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত অনুশোচনার বিষয়। তবে যেটা ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট সেটা হচ্ছে যে, তার দল বা তার সাপোর্ট যেভাবে ড্রামাটিক ইমপ্যাক্ট ফেলেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে, এইটা যদি ট্র্যান্সলেট করে জাতীয় নির্বাচনে, তাহলে এইটা শঙ্কার বিষয় জাতিগতভাবে।’

রিফর্ম ইউকের উত্থানের পেছনে অন্যতম বড় ইস্যু ছিল অভিবাসন। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, বৈধ ও অবৈধ অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন অর্জন করেছে। তবে নাইজেল ফারাজের পদত্যাগের ঘোষণার পরও অভিবাসন নীতি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে অভিবাসী কমিউনিটিগুলোর আলোচনা আর শঙ্কা থামেনি।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি নেতা ব্যারিস্টার আতাউর রহমান বলেন, ‘ব্রিটিশ রাজনীতির ঘাপটি মারা যে বর্ণবাদী একটা গ্রুপ, তাদের একটা পলিসি, সে এখানে স্টেপ ডাউন করবে। স্টেপ ডাউন করে সে হয়তো বাই ইলেকশনে আবার ইয়ে করে, আবার নির্বাচিত হয়ে রিফর্ম পার্টির হাল ধরবেন। এবং তাদের যে পলিসি, অ্যান্টি মাইগ্রেন্ট যে পলিসি, সেই পলিসিটা উনার আরও বীরদর্পে এগিয়ে নিবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অলরেডি তারা বলছে যাদের অন্ততপক্ষে ব্রিটিশ সিটিজেনশিপ না, আইএলআর আছে, তারা কাউন্সিল হাউজও পাবে না। কাউন্সিল হাউজ থেকেও তাদেরকে উনারা বের করে দিবেন। এ সমস্ত পলিসিগুলো দিয়ে ৮০ শতাংশর মতন যে হোয়াইট ইন্ডিজেনিয়াস কমিউনিটি আমরা যারা বলি, যাদেরকে বুঝাই, সে তাদেরকে আকর্ষণ বা অ্যাট্রাকশন করার চেষ্টা প্রতিনিয়ত করছে।’

ফারাজের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি ক্রিপ্টো উদ্যোক্তা ক্রিস্টোফার হারবোর্নের দেয়া প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ডের উপহার এবং দণ্ডিত প্রতারক জর্জ কটরেলের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তার তথ্য গোপন করেছিলেন। এ অভিযোগে পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার তদন্ত শুরু করলে রাজনৈতিক চাপে শেষ পর্যন্ত তাকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এদিকে, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির প্রধান হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। মনোনয়ন পর্ব শুরুর পর লেবার পার্টির প্রধান হিসেবে ৩২২ জন দলীয় পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। এখন আর কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা না দিলে সহজেই দলের প্রধান হতে যাচ্ছেন বার্নহ্যাম। আর সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও নিতে পারেন ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র। মেকারফিল্ডে উপনির্বাচনে অভাবনীয় সাফল্য দেখানোর পর থেকে লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ রচিত হচ্ছে বার্নহ্যামের হাত ধরেই।

এফএস