বৈশ্বিক জ্বালানির সরবরাহের মূল অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত মার্কিন আধিপত্য ধরে রাখা, হরমুজ নিয়ন্ত্রণ এবং দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি ও শর্ত ভঙ্গের অভিযোগের কারণে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।
বারবার যুদ্ধ বন্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও পাল্টাপাল্টি প্রানঘাতী সংঘাতে জড়িয়ে যাচ্ছে দু’দেশ। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। চলমান সংঘাত এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকট চরম পর্যায়ে টেনে নিয়েছে। তেল-নির্ভর দেশগুলোর আয় কমে গেছে। হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে, গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তাছাড়া কিছু দেশ দু’দেশের এ দ্বন্দ্বের কারণে মারাত্মক কূটনীতিক চাপের সম্মুখীনও হচ্ছে।
দুপক্ষের সামরিক-বেসামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলায় এ অঞ্চলে এরই মধ্যে মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের প্রাণহানি হামলার জবাবে তেহরান-ওয়াশিংটন সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে উদগ্রীব। ট্রাম্প ইরানে হামলা জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় কয়েক ডজন ইরানি নিহত হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা স্থায়ী সংঘাত জিইয়ে রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরানকে কেন্দ্র করে স্থায়ী সংঘাত এড়িয়ে যেতে পারছেন না ট্রাম্প। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একরোখা পররাষ্ট্রনীতি, হেঁয়ালিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি চিরস্থায়ী যুদ্ধের দিকে টেনে নিচ্ছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, দুই পরাশক্তির এই দ্বন্দ্বের ভবিষ্যৎ কি? এ সবের সমাধান কিসে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ যুদ্ধ যদি চিরস্থায়ী সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়, তবে এ অঞ্চল বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীদের প্রক্সি যুদ্ধ, সাইবার হামলা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বৃত্তেই আবর্তিত হবে। এমন সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কেননা সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে যেতে বাধ্য হলেও একসময় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত ছায়াযুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার নীতিতে অটল থাকবে। এক্ষেত্রে তারা আপসহীন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ উত্তেজনার ভূরাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা দুই দেশই জানে। সর্বাত্মকভাবে এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই আলোচনার পথ খোলা রেখে দুপক্ষেরই সংকট নিয়ন্ত্রণের আরও আন্তরিক চেষ্টা একান্তই দরকার।





