যুদ্ধের তারে বাসা বাঁধছে পাখি; ইউক্রেনে প্রকৃতিতেও ক্ষতের ছাপ

যুদ্ধের তারে বাঁধা পাখির বাসা
যুদ্ধের তারে বাঁধা পাখির বাসা | ছবি: সংগৃহীত
0

চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইউক্রেনের অনেক এলাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য স্থাপনা, বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। এবার যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে দেশটির জীববৈচিত্র্যেও। ঘাস, লতা-পাতা বা খড়কুটোর বদলে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল দিয়ে বাসা বাঁধছে পাখিরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রসংলগ্ন প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে অতি পাতলা অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল। এসব ক্যাবল ব্যবহার করা হয় ড্রোন নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধের সম্মুখভাগের কাছাকাছি গাছপালা, খোলা মাঠ ও ভবনের ছাদে পড়ে থাকা এসব ক্যাবল এখন পাখিদের বাসা তৈরির উপকরণে পরিণত হয়েছে।

২০ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ এসব ফাইবার ক্যাবল সূর্যের আলোয় অনেকটা মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে আছে। সেই কৃত্রিম উপকরণ দিয়েই তৈরি হচ্ছে পাখির নতুন আবাস।

কিয়েভের যুদ্ধ জাদুঘরের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়ানা হ্রিনকো জানান, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করা দু’টি পাখির বাসা পরীক্ষা করে তারা এসব তথ্য পেয়েছেন। এর একটি বাসায় শুকনো ঘাসের সঙ্গে ফাইবার-অপটিক ক্যাবল ব্যবহার করা হয়েছে। শক্তভাবে পেঁচিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাসাটি।

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের নিদর্শন হিসেবে একটি বাসা ইউক্রেনের যুদ্ধ জাদুঘরে রাখা হবে। অন্যটি গবেষণার জন্য নেদারল্যান্ডসে পাঠানো হবে। গবেষণা শেষে সেটি আবার ইউক্রেনে ফিরিয়ে আনা হবে।’

নেদারল্যান্ডসের জীববিজ্ঞানী আউকে-ফ্লোরিয়ান হিমস্ট্রা বলেন, ‘ইউক্রেন জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দেশ। তবে এসব কৃত্রিম উপকরণ দিয়ে তৈরি বাসা কোন প্রজাতির পাখি তৈরি করেছে, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।’

তিনি জানান, বাসায় থাকা ডিএনএ পরীক্ষা করে পাখির প্রজাতি শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। এমন অস্বাভাবিক বাসা তিনি আগে কখনো দেখেননি বলেও মন্তব্য করেন।

তবে ফাইবার ক্যাবল দিয়ে তৈরি এসব বাসা পাখিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সূক্ষ্ম ক্যাবলে পাখি জড়িয়ে আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও একই সঙ্গে এসব উপকরণ বাসাকে আরও শক্ত ও টেকসই করে তুলতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

এনএইচ