তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ইউরোপ; ইতালির সব শহরেই ‘রেড অ্যালার্ট’

রোমের কলোসিয়ামের সামনে তীব্র গরমে পর্যটক
রোমের কলোসিয়ামের সামনে তীব্র গরমে পর্যটক | ছবি: অ্যাসোসিয়েট প্রেস
0

তীব্র দাবদাহে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে ইউরোপের জনজীবন। বৃহস্পতিবার ইতালির প্রধান সব শহরে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়ায় তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে এবং হাঙ্গেরিতে খরা ও তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহারে জরুরি বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। ফ্রান্সসহ বলকান অঞ্চলের দেশগুলোতে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো তাদের নজরদারিতে থাকা ২৭টি শহরের সব কটিতেই রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। এই সতর্কবার্তা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিয়েস্তে থেকে শুরু করে সিসিলির পালেরমো পর্যন্ত কার্যকর করা হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে রোমের কলোসিয়াম ও প্যানথিয়নের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সন্ধ্যার পরও প্রবেশের সুযোগ দেয়া হচ্ছে এবং পর্যটকদের জন্য বিশেষ পানির ছিটা বা মিস্ট ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তাপমাত্রার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখা গেছে অস্ট্রিয়ায়। দেশটির স্লোভাক সীমান্তঘেঁষা বাদ ডয়েচ-আল্টেনবার্গ গ্রামে তাপমাত্রা ৪১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা অস্ট্রিয়ার ইতিহাসে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। অতিরিক্ত গরমের পাশাপাশি দেশটিতে তীব্র খরা দেখা দিয়েছে; ১৮৮৫ সালের পর এমন শুষ্ক পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।

হাঙ্গেরিতে দানিউব নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সংকটে পড়েছে। চুল্লি ঠান্ডা করার পানির অভাবে কেন্দ্রটির উৎপাদন ১০ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শিল্পকারখানা ও ঘরবাড়িতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মাল, সুজুকি, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউর মতো বড় কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি দেশটির পার্লামেন্ট অধিবেশনও স্থগিত করা হয়েছে।

জার্মানিতে রাইনসহ প্রধান নদীগুলোর পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ও শিল্প উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। ফ্রান্সে শক্তিশালী বাতাস ও প্রচণ্ড শুষ্ক আবহাওয়ায় দাবানল ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভার অঞ্চলে গত কয়েক দশকে সবচেয়ে বড় দাবানলে ৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়াসহ বলকান অঞ্চলের দেশগুলোতেও খরা ও বনের আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে এমন চরমভাবাপন্ন গ্রীষ্ম আরও ঘনঘন আঘাত হানবে।

এএম