হিরোশিমার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার আহ্বান জাতিসংঘের মহাসচিবের

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস | ছবি: সংগৃহীত
0

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় তিনি দেশগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্রের বদলে কূটনীতি ও নিরস্ত্রীকরণের পথে ফেরার আহ্বান জানান।

গুতেরেস বলেন, ‘৮১ বছর আগে হিরোশিমা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। বিশ্ব তখন পারমাণবিক যুদ্ধের বিধ্বংসী শক্তির মুখোমুখি হয়েছিল।’ ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে হিরোশিমায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সেই হামলায় বছরের শেষ নাগাদ আনুমানিক ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এর তিন দিন পর নাগাসাকিতে চালানো হামলায় আরও প্রায় ৭৪ হাজার মানুষের প্রাণ যায়।

জাতিসংঘ মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে ভূরাজনৈতিক বিভাজন গভীর হচ্ছে এবং দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ফলে দশকের পর দশক ধরে পারমাণবিক বিপর্যয় ঠেকিয়ে রাখা সুরক্ষাব্যবস্থা এখন চাপের মুখে। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত কমার বদলে এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি (২.৯ ট্রিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে।

গুতেরেস বলেন, ভয় বা শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়; শান্তি গড়ে ওঠে বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে। শক্তির দাপট দেখাতে আবারও পারমাণবিক অস্ত্রের ভয় দেখানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দেন।

পারমাণবিক অস্ত্র নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়—এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, দেশগুলোকে এমন চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পারমাণবিক অস্ত্র আসলে নিরাপত্তার বদলে বিপদ বাড়ায়। ১৯৪৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম প্রস্তাবেই এসব অস্ত্র নির্মূলের দাবি জানানো হয়েছিল, যা আজও পূরণ হয়নি। হিরোশিমার বিয়োগান্তক ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সংঘাতের বদলে সহযোগিতার পথ বেছে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এএম