ইরান সংঘাতের জেরে গেল ফেব্রুয়ারি থেকে এক প্রকার স্থবির বিশ্ব তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ। যুদ্ধের আগে রুটটি দিয়ে দিনে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করলেও, জলপথটিতে ওয়াংশিংটন- ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে এখন তা তলানিতে ঠেকেছে।
তবে আলোচনার টেবিলে কয়েক দফা দরকষাকষি শেষে হরমুজের রুট বিতর্কের সমাধানে যখন সমঝোতায় ইরান-ওমান; তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রশ্ন ঠিক কোন কোন বিষয় অন্তর্ভুক্ত নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তিতে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে একাধিক গণমাধ্যম বলছে, চুক্তিতে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলো ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে উত্তর দিকের নৌপথ ব্যবহার করবে ও উপসাগর ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো ইরানের সাথে সমন্বিতভাবে ওমানের জলসীমার দক্ষিণ দিকের পথে যাতায়াত করবে। এর মাধ্যমে একটি নতুন ‘মধ্যবর্তী করিডোর’ প্রতিষ্ঠিত হবে যা হরমুজে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি উভয় উপকূলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এর আগে অবশ্য হরমুজে চলাচল করা জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্তান দুই পথেরই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি জানিয়েছিল ইরান। তবে বর্তমানে সেই একক নিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে ইরান সরে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।
আরও পড়ুন:
তবে রুট বিতর্কের পরও অনেক যদি- কিন্তুর সমীকরণ তৈরি করছে শুল্ক বা সার্ভিস ফি আদায় নিয়ে তেহরান- মাস্কাটের মতপার্থক্য। কেননা হরমুজে চলাচল করা জাহাজে থাকা মোট পণ্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত টোল হিসেবে আদায় করতে চায় ইরান। আর ওমান চায় প্রায় ৩ শতাংশ। এর চেয়েও বড় প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় টোল আদায় কি মানবে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় টোল আদায়ের বিধান না থাকলেও বন্দর ব্যবহার বা সুনির্দিষ্ট নৌ-সেবা দেয়ার বিনিময়ে নামমাত্র ফি নেয়া যায়।
এছাড়াও, হরমুজ ইস্যুতে ইরান-ওমান সমঝোতা কি হাসিমুখে মেনে নেবে যুক্তরাষ্ট্র- তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা? ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর যেকোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নৌ- আইনের পরিপন্থী বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আর শুরু থেকেই যেকোনো ধরনের টোল আদায়ের বিপক্ষে হোয়াইট হাউজ। একারণে, ইরান-ওমান সমঝোতা চুক্তিতে পরিণত হলেও, তেহরানের নৌ-বন্দরগুলো থেকে ওয়াশিংটন নৌ- অবরোধ তুলবে কি না তা নিয়েও জাগছে প্রশ্ন। আর ইরান তো হুঁশিয়ারি দিয়েই রেখেছে; তাদের নৌ-বন্দরগুলো থেকে অবরোধ না তুললে চুক্তির পরও সচল হবে না হরমুজ।
অন্যদিকে, সব যদি- কিন্তুর সমাধান ও হরমুজ সচল হলেও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের সমাধান আসবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। কেননা জলপথের কূটনৈতিক সমাধানের পর, আলোচনার টেবিলে প্রাধান্য পাবে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি আর লেবানন সংঘাত। যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে রক্তক্ষয়ী হামলা বহাল রেখেছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ। আর তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে এখনও মতবিরোধে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান।




