গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন। প্রতি বছর কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্য যে প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়, সেই কৌশলগত তাইওয়ান প্রণালিকেও নিজেদের বলে দাবি করে বেইজিং। তবে তাইপে ও ওয়াশিংটন এই দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
গত বুধবার চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, টাইফুনটি অগ্রসর হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে তাইওয়ান প্রণালির দক্ষিণ প্রবেশমুখ দিয়ে উত্তরদিকে চলাচলকারী সব জাহাজকে চীনের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে। এতে বলা হয়, সব জাহাজকে অবশ্যই এই শর্ত মানতে হবে, ঝড় থেকে বাঁচতে নিরাপদ জলসীমা বেছে নিতে হবে এবং সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
শুক্রবার রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল বলেছে, ‘চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এই অযৌক্তিক ও রূঢ় বক্তব্য আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নীতিমালার প্রতি অজ্ঞতা, অবজ্ঞা ও লঙ্ঘনের বহিঃপ্রকাশ। এটি একেবারেই হাস্যকর।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তাইওয়ানের নিজস্ব বিষয়ে চীনা কমিউনিস্টদের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।’
একই সময়ে দেয়া আরেক বিবৃতিতে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানায়, চীনা জাহাজের কোনো ‘অস্বাভাবিক গতিবিধি’ তারা শনাক্ত করেনি এবং কোনো শিপিং কোম্পানিও ‘সম্প্রচার-হস্তক্ষেপের’ শিকার হওয়ার অভিযোগ করেনি। ওই এলাকা দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে চীনের যেকোনো ধরনের সম্প্রচার-নির্দেশনা উপেক্ষা করে দ্রুত ঘটনাটি জানানোর অনুরোধ করেছে কোস্ট গার্ড। একইসঙ্গে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তর দিক দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে এবং শনিবার রাত অথবা রোববার সকালে চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, চীনের সামরিক বাহিনী তাইওয়ান প্রণালিতে প্রায় প্রতিদিনই তৎপরতা চালিয়ে থাকে। তাইওয়ানের সরকার বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার শুধু দ্বীপটির জনগণেরই রয়েছে।





