বুলগেরিয়া ও জার্মানিতে রহস্যময় ড্রোন; রাশিয়ার সম্পৃক্ততার আশঙ্কা

শকয়ডিটজের লাইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে কাজ করছেন ফরেনসিক কর্মকর্তা
শকয়ডিটজের লাইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে কাজ করছেন ফরেনসিক কর্মকর্তা | ছবি: আল জাজিরা
0

ইউরোপে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি এমন ড্রোনের অনুপ্রবেশ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বুলগেরিয়ার ট্রান্স-বলকান গ্যাস পাইপলাইনের কাছে একটি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা যখন চরমে, তখনই এসব ঘটনা ঘটলো। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ শনিবার জানিয়েছেন, রোমানিয়া সীমান্ত ঘেঁষা কারদাম সীমান্ত পারাপার এলাকার কাছে ড্রোনটি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ট্রান্স-বলকান গ্যাস পাইপলাইনের কম্প্রেসর স্টেশনের দূরত্ব এক কিলোমিটারেরও কম। এই পাইপলাইনটি তুরস্ককে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্ত করেছে। সরকারিভাবে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি নিশ্চিত করেন, এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর নেই।

অন্যদিকে জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র শনিবার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের মেখেরনিখের একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে দুটি ড্রোন দেখা গেছে। বেলজিয়াম সীমান্ত থেকে এই ঘাঁটির দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। ঘটনাস্থলে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে এবং জার্মান পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন ওই মুখপাত্র।

জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেখেরনিখে অবস্থিত জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর (বুন্দেসভের) এই স্থাপনাটি সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশের একটি ভূগর্ভস্থ উচ্চ-নিরাপত্তা গুদাম। এ ছাড়া মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ঘাঁটিও এটি। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরেও একটি ড্রোন পাওয়া যায়। এই বেসামরিক পণ্যবাহী ও ন্যাটোর লজিস্টিক কেন্দ্রটির কাছে ইউক্রেনের ‘আন্তোনভ এএন-১২৪’ কার্গো বিমানের একেবারে পাশেই ড্রোনটি দেখা গিয়েছিল।

ইউরোপজুড়ে এই ড্রোন কাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধ এখন ন্যাটোভুক্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ঘাড়ে এসে পড়ছে কি না, সেই আশঙ্কা বাড়ছে। নতুন এই নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় জার্মানির মতো ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত, তা নিয়েও বিতর্ক জোরালো হচ্ছে।

জার্মান সরকারের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কোনো দেশকে দায়ী না করলেও কিছু রাজনীতিক সরাসরি রাশিয়ার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। এর আগেও ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ড্রোন অনুপ্রবেশের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। গত জুলাইয়ে ন্যাটো সদস্য রোমানিয়ার আকাশসীমায় সন্দেহভাজন রুশ ড্রোন দেখা যাওয়ার পর ইউরোপীয় কমিশন বলেছিল, রাশিয়ার যুদ্ধ ‘আরও একটি সীমা অতিক্রম করেছে’। ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে বলেছেন, ‘মস্কোর এই বেপরোয়া আচরণ আমাদের সবার জন্য বিপজ্জনক।’ ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এই জোট তাদের প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষা করবে।

তবে রাশিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। শুক্রবার বার্লিনে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস লিপজিগের ঘটনাকে ‘সাজানো উসকানি’ বলে অভিহিত করে। দূতাবাসের ভাষ্য, প্রমাণ ছাড়াই রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার এটি আরেকটি উদাহরণ।

এএম