ফুঁসে উঠেছে সমুদ্র। উপকূলে আছড়ে পড়ছে বিশাল ঢেউ। ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রসহ অবিরাম ভারী বৃষ্টিতে তাণ্ডবের নগরী সাংহাই ও পূর্ব চীনের কয়েকটি অঞ্চল।
রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের উহানে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানে টাইফুন ডলফিন। এর ঠিক ১ঘন্টা পর প্রদেশটির আরেক শহর ওয়েনঝৌতেও আছড়ে পড়ে টাইফুন।
বছরের সবচেয়ে বিধ্বংসী টাইফুনের আঘাতে সড়কজুড়ে ধ্বংসের ছাপ। পড়ে আছে গাছপালা। অনেক স্থানে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। পানির স্রোত ঢুকে পড়েছে দোকানেও।
স্থানীয়রা জানান, ভাবতে পারেনি সাংহাইতেও টাইফুন আঘাত হানবে। কিন্তু এমনটাই ঘটেছে। এর সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত নই।
রাতেই দুর্যোগকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বাতিল প্রায় ১৫০০ ফ্লাইট।
টাইফুন ক্রমশ দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে রূপান্তরিত হলেও সোমবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে ঝেজিয়াং, ফুজিয়ান, হুবেইসহ চীনের অন্তত ৬টি প্রদেশে। বিভিন্ন অঞ্চলে জারি রয়েছে বন্যা ও ভূমিধস সতর্কতা।
টাইফুনের প্রভাবে টালমাটাল এশিয়ার আরেক দুর্যোগপ্রবণ দেশ ফিলিপিন্স। রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশটির পশ্চিমের কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে বন্যা। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য বলছে, ফিলিপিন্সের ৮টি অঞ্চলে চলমান দুর্ভোগে অন্তত ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ কবলিতদের জন্য খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, আমরা বন্যাদুর্গতদের খাবার দিচ্ছি ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্তদের ঔষুধসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করছি। তবে কিছু অঞ্চলে নদ- নদীর পানির স্তর বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
টাইফুন ডলফিনের তাণ্ডবে যখন টালমাটাল চীন-ফিলিপিন্স, তখন টাইফুনের বিপরীত প্রভাবের সাক্ষী হলো হংকং। রোববার হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলে ১৪০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৬. ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে সৃষ্ট নিম্নগামী বায়ুপ্রবাহের কারণে অস্বাভাবিক তাপমাত্রার সাক্ষী হংকংবাসী। হিটওয়েভ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে বলেও পূর্বাভাস আবহাওয়াবিদদের।
এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে ভারতের আসামেও। রাজ্যটিতে এরইমধ্যে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০০। ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যটির ২৫ জেলার ১১ লাখ বাসিন্দা।





