দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ‘জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ’ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে ‘পূর্ব সাগর’ অভিমুখে ১০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধরন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করছে বলে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকে এই উৎক্ষেপণকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে সতর্কতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই উৎক্ষেপণ এমন সময়ে করা হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়ার সংক্ষিপ্ত সংস্করণ চালাচ্ছে।
ট্রাম্পের নির্দেশে মহড়া ছোট করে আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে এসেছে। উত্তর কোরিয়া বহুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়াকে আগ্রাসনের মহড়া হিসেবে বর্ণনা করে আসছে এবং প্রায়ই এসব মহড়ার সময় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করছেন।’ তিনি কিম জং উনের সঙ্গে ‘মিলেমিশে থাকা’ জরুরি বলেও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে এখন ৫৭টি ‘খুব শক্তিশালী’ পরমাণু অস্ত্র আছে। সিউলের মতে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা আনুমানিক ৮০ থেকে ১২০টি। উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা পর উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ মহড়া ছোট করার সিদ্ধান্তকে সিউলের ‘শাস্তি’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ‘‘প্রভু-চাকরের’’ মতো।’
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ং গতকাল বুধবার বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় তিনি ট্রাম্পকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করবেন।’ তবে কিম ইয়ো জং বৃহস্পতিবার লির বক্তব্যকে ‘দ্বিমুখী’ বলে বিদ্রূপ করেন। এর আগের দিন তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্পকে ঘিরে কিম জং উনের ‘ভালো স্মৃতি ও অনুভূতি’ আছে এবং দুই নেতার সম্পর্ক ‘চমৎকার’। তবে তাদের মধ্যে বর্তমানে কোনো যোগাযোগ আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান।
দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন আছে। কোরিয়া যুদ্ধ ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে থামলেও এখনো কোনো শান্তিচুক্তি হয়নি। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গ্যু-ব্যাক বলেছেন, উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার বিরোধিতা বজায় রাখবে সিউল। যুক্তরাষ্ট্র কি উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তার তা মনে হয় না।





