এল নিনোর প্রভাবে পানি কমার আশঙ্কা; সেপ্টেম্বর থেকে পানামা খালে জাহাজ চলাচলে নতুন সীমা

পানামা খালের মিরাফ্লোরেস লক অতিক্রম করছে ‘সিরিয়াস লিডার’
পানামা খালের মিরাফ্লোরেস লক অতিক্রম করছে ‘সিরিয়াস লিডার’ | ছবি: আল জাজিরা
0

এল নিনোর প্রভাবে পানামা খালে পানির স্তর কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় আগামী সেপ্টেম্বর থেকে খাল দিয়ে জাহাজ চলাচলে সীমা আরোপ করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পানামা ক্যানাল অথরিটি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়ার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দৈনিক পারাপারের সর্বোচ্চ সংখ্যা বেঁধে দেয়া হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

নতুন ব্যবস্থায় ৪ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩৪টি জাহাজ খাল পার হতে পারবে। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই সীমা আরও কমিয়ে ৩২টি করা হবে। এ সিদ্ধান্ত আগের অবস্থানের বিপরীত। রয়টার্সকে মে মাসে পানামা ক্যানাল অথরিটির কর্মকর্তারা বলেছিলেন, গত বছর পানি সাশ্রয়ের নানা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ কারণে এ বছর পারাপার সীমিত করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

বিশ্বের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ পানামা খাল দিয়ে হয়। সাধারণভাবে খালটির সক্ষমতা দিনে প্রায় ৪০টি জাহাজ পারাপারের। তবে জুন থেকে গড়ে দিনে ৩৫টি করে জাহাজ চলেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ধীর হতে পারে। এতে খালের ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন শিল্পখাতে পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে। ২০২৩ সালে তীব্র খরার সময় পানামা খালে জাহাজ চলাচল প্রায় ৩৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। সে সময় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। ওই বছরে পানির স্তর কমে যাওয়ার পেছনে এল নিনো এবং মানুষের কর্মকাণ্ডে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া-ঘটনা, যা সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা যায়। এ সময় পূর্ব ট্রপিক্যাল প্রশান্ত মহাসাগরের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ হয়। এর ফলে একদিকে কিছু অঞ্চলে অতিরিক্ত গরম ও খরার ঝুঁকি বাড়ে, অন্যদিকে কোথাও কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী মাসগুলোয় এল নিনো শক্তিশালী হতে পারে অতীতের শক্তিশালী ঘটনাগুলোর মধ্যে পড়ার আশঙ্কাও আছে। এতে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে পারে।

পানামা খালে ‘লক’ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। এই লক দিয়ে জাহাজকে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ক্যারিবীয় সাগর বা উল্টো পথে তুলতে-নামাতে পানি লাগে। খালটি আংশিকভাবে আশপাশের হ্রদ ও জলাধারের মিঠাপানির ওপর নির্ভরশীল—এর মধ্যে গাতুন লেক অন্যতম। ওই লেকের পানি পানামা সিটি-সহ আশপাশের শহরগুলোর পানীয় জল সরবরাহেও ব্যবহৃত হয়। খরার সময় খালের জন্য পানি সংরক্ষণে এই চাপ আরও বাড়ে।

এএম