যুদ্ধকালীন নির্বাচন ইউক্রেনকে ধ্বংস করবে,আশঙ্কা জেলেনস্কির

0

যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা জনগণকে বিভক্ত করে দেশকে ধ্বংস করে দেবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইল ফেদোরোভের যুদ্ধকালীন নির্বাচনের আহ্বানের পর গত আজ (রোববার, ২৩ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত মাসে মিখাইল ফেদোরোভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেয়া হয়, যা দেশজুড়ে প্রতিবাদের জন্ম দেয়। এরপর গত সপ্তাহে তিনি যুদ্ধকালীন নির্বাচনের দাবি তোলেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম ইউক্রেনের কোনো শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নির্বাচনের দাবি জানালেন।

জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা যদি দেশটিকে ধ্বংস করতে চাই, তবেই এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।’

ইউক্রেনের আইন অনুযায়ী যুদ্ধকালীন সময়ে কোনো নির্বাচন আয়োজন করা নিষিদ্ধ। এ ছাড়া লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিকের দেশের বাইরে থাকা, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোর পরিস্থিতি এবং সম্মুখ সমরে সেনাদের ব্যস্ততার কারণে এই মুহূর্তে ভোটগ্রহণ করা অত্যন্ত জটিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, জেলেনস্কির জনপ্রিয়তার হার বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ভোটাররা রাজনীতিতে নতুন মুখ চাইলেও এই মুহূর্তে ভোট দেয়ার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ কম। কিইভ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির গত ৫ আগস্টের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ ইউক্রেনীয় নাগরিক যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই কেবল নির্বাচন চান।

জেলেনস্কি বলেন, পশ্চিমা সহযোগীরা যদি নিরাপত্তার শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারে, তবেই হয়তো যুদ্ধকালীন নির্বাচন সম্ভব হতে পারে। তবে এখনো কেউ এমন কোনো পরিকল্পনা দেয়নি।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে নির্বাচন আয়োজন রাষ্ট্রের জন্য একটি সুনামি বয়ে আনবে, যা ইউক্রেনকে বিভক্ত করে ফেলবে। তাই আমার কৌশল হচ্ছে দেশকে যুদ্ধের সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাওয়া এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখা।’

জেলেনস্কির দীর্ঘদিনের সহযোগী এবং তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত মিখাইল ফেদোরোভ অবশ্য নিজে পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি।

এএম