তথ্য চাওয়া ওই পাঁচ কর্মকর্তা হলেন—আইআরজিসির সাবেক প্রধান আহমদ ওয়াহিদি, চলতি মাসের শুরুতে দেশটির প্রচলিত সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত আলী আবদুল্লাহি (যিনি আগে খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান ছিলেন), আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন শাখার প্রধান সাইদ আগাজানি, আইআরজিসি সাইবার ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান হামিদরেজা লাশগারিয়ান এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মজিদ খাদেমি।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ইসরাইলের অপারেশন রোরিং লায়ন চলাকালে এক বিমান হামলায় মজিদ খাদেমি নিহত হন বলে সে সময় ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ নিশ্চিত করেছিলেন। আইআরজিসিও সে সময় তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার মরদেহ দাফন করেছিল।
রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তথ্যদাতাদের কেবল আর্থিক পুরস্কারই দেয়া হবে না, বরং তাদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার সুবিধাও দেয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরকারের ভেতরের বা কাছাকাছি থাকা সাধারণ নাগরিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের আকৃষ্ট করতেই এই অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই কর্মকর্তারা মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও স্বার্থের ওপর সামরিক অভিযান ও সাইবার হামলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এ ছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনিসহ আরও নয়জন রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য চেয়ে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের উপপ্রধান আলী আসগর হেজাজি, সামরিক উপদেষ্টা ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি এবং ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি। নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ না করে ডিফেন্স কাউন্সিল-এর সেক্রেটারি, সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা, গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারির তথ্যের জন্যও পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। চলতি মাসেই মোহসেন রেজায়িকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি নিযুক্ত করেছেন খামেনি।
২০১৯ সালে আইআরজিসি এবং এর আন্তর্জাতিক শাখা কুদস ফোর্সকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ওয়াশিংটন। গত সোমবার অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট শুরুর সময় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সরাসরি ইরানি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, যখন তাদের বেতন বন্ধ হয়ে যাবে, তখন তাদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত যে কমান্ডাররা তাদের ‘বিজয়ের দিকে নাকি ধ্বংসের দিকে’ নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সাধারণ সৈন্যরা যখন নিজেদের জনগণের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তখনই বার্লিন প্রাচীরের পতন ঘটেছিল।
গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লেখেন, ‘ভেঙে পড়া ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের সেনাবাহিনীর বড় একটি অংশকে বেতন দিতে পারছে না। একই সঙ্গে তারা বিক্ষোভকারীদের নজিরবিহীনভাবে হত্যা করছে, এমনকি যখন তারা বিক্ষোভ করছে না তখনও। এটি একটি চরম মানবিক সংকট এবং এখনই এর অবসান ঘটাতে হবে।’





