নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস: নিহত বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ ৬০০ পর্যটক

নেপালের আকস্মিক বন্যা
নেপালের আকস্মিক বন্যা | ছবি: সংগৃহীত
0

ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে নেপাল ও তিব্বতে ১৬২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও, স্থানীয়সহ নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০ জনে। এদের মধ্যে ১৩৩ ভারতীয়, ৫৪ জন মার্কিন ও ৩৩ ব্রিটিশ নাগরিক আছেন। উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে ভারত ও চীন।

পানির তোড়ে কয়েক সেকেন্ডে তলিয়ে যাচ্ছে বহুতল ভবন, ভসে যাচ্ছে চলন্ত গাড়ি, ধসে যাচ্ছে বাড়িঘর। তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে একটি সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে নজিরবিহীন এই দৃশ্য।

এ দুর্ঘটনা বুধবার সকালের। নেপালের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৯টার দিকে ভেতোকোশি নদীর পানি দুই কূল উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। স্রোত বেশ থাকায় ভেসে যায় নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা। তলিয়ে যেতে থাকে গ্রামের পর গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু অবকাঠামো ও বসতবাড়ি। এ সময় এই অঞ্চলটিতে ছিলেন বহু বিদেশি পর্যটক। আর সেখানেই বিপর্যয়ের শুরু।

হিমালয় কন্যা নেপালের সৌন্দর্য্য দেখতে এসে এই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় স্থানীয়সহ প্রায় ৪শ' পর্যটক। কয়েকটি সূত্র বলছে, এই পর্যটকদের অনেকেই তিব্বতের কৈলাস ও মানস সরোবরের উদ্দেশে তীর্থযাত্রার জন্য যাচ্ছিলেন। এদের মধ্যে ভারতীয়'র সংখ্যা শতাধিক, এরপরেই আছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডের নাগরিক।

দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান শুরু করেছে নেপালি উদ্ধারকারী দল। ভয়াবহ এই সংকটে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের পর সবধরনের মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর, তিব্বত অঞ্চলে সর্বাত্মক অনুসন্ধান প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন শি জিনপিং। সহমর্মিতা জানিয়েছে নেপালের মার্কিন দূতাবাস।

এছাড়াও, নিখোঁজ স্থানীয় নেপালিদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ কর্মী, শুল্ক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীরাও আছেন, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প।

স্থানীয় সময় বেলা ১১টার পর থেকেই উদ্ধার ও ত্রাণকার্য্যের জন্য ১৪টি হেলিকপ্টার এবং দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করা হয়েছে। মাঠে নেমেছে নেপালের সেনাবাহিনী। নেপালের মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, রাসুয়ায় ভয়াবহ বন্যার কারণে কোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে, আকস্মিক এই ঢলের কারণ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তেই প্রথমে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। যা আঘাত হানে জিরং বন্দরে। এতে নদী পথ আটকে গিয়ে ভাটির দিকে প্রবল স্রোতে বইতে শুরু করে। আর সেখান থেকেই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত। আর, কাঠমান্ডু পোস্ট বলছে, প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, বরফধসের কারণে লেন্দে নদীর গতিপথ আটকে যায়। আর এর জেরই ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক এই বন্যার সৃষ্টি হয়।

ইএ