যে সময় বাঙালি জাতি পরাধীনতার গ্লানিতে নিঝুম ছিলো, ঠিক তখনই ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হন কাজী নজরুল ইসলাম। কলমকে বানিয়েছিলেন ধারালো তলোয়ার, আর শব্দকে করেছিলেন আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভা। বিদ্রোহীর হুঙ্কারে কেঁপে উঠেছিলো শাসকশ্রেণি, আবার ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য’ দিয়ে শিখিয়েছিলেন বিদ্রোহ আর প্রেম আসলে একই সুঁতোই বাঁধা।
বিদ্রোহ, প্রেম ও অসাম্প্রদায়িকতার সেই কবি কাজি নজরুলের ইসলামের ৫০ মৃত্যু বার্ষিকীতে এবারও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ।
সকাল থেকেই জাতীয় কবির সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সকল শ্রেণির মানুষ। সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবি , পরিবারের সদস্য ও ভক্ত অনুরাগীরা। তিনি জানান, কবির বাস্তব ধর্মী লেখা বেঁচে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।
আরও পড়ুন:
এদিকে সকালে কবিকে শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রতীক ছিলেন জাতীয় কবি, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন জুলাই আন্দোলনেও।
প্রতি বছর কবিকে শ্রদ্ধা জানানো হলেও এখনো পরিবারের অনেক দাবি অধরা। জাতীয় জাদুঘরে নজরুল কর্নার সরানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কবির কর্নার স্থাপনের দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
অন্যদিকে, সকাল ৯টার দিকে জাতীয় কবিকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। এসময় সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নজরুল চর্চা অগ্রগামী করতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
প্রতি বছরের মাত্র দুই দিন জাতীয় কবিকে স্মরণ করলেও সামাজিক জীবনে নজরুলের রচিত গান কবিতা ও প্রবন্ধ আজও অবিচল। কবির দর্শন, বিদ্রোহ, প্রেম আর অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শে জীবন পরিচালনার তাগিদ ভক্ত অনুরাগীদের।





