ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর দেবীঘাট। যতদূর চোখ যায় শহরের কঙ্কালসার ধ্বংসাবশেষ। পানিতে ভেসে যাওয়া শহর আর উপত্যকার ওপর যেন কাদামাটির কাফন। শুধু দেবীঘাট নয়, হিমালয় কন্যা যেন ধূসর মলিন বসনে প্রকৃতির নির্মমতার মাশুল গুনছে।
ত্রিশূলী নদীর এক প্রান্ত যখন শুনশান, অন্যপ্রান্তে তখন চলছে প্রতীকী শেষকৃত্য। এ নদীর পাশে ধানক্ষেতে কাজে গিয়েছিলেন গ্রামের মহিলারা। বুধবারের ঢলে পর আর ফিরে আসেননি ঘরে। পাওয়া যায়নি তাদের মরদেহও। পরিবারের সদস্যারা তাই আয়োজন করেছেন ‘নারায়ণ বলি’র। স্থানীয় ভাষার যার অর্থ প্রতীকী শেষকৃত্য। টকটকে লাল শাড়ি দিয়ে বানানো হয়েছে কল্পিত শবদেহ। ঠিক যেভাবে বিয়ের পর এ নারীদের বরণ করেছিলেন গ্রামের মানুষ।
নেপালে প্রলংকারী দুর্যোগের এক সপ্তাহ পেরিয়েছে। এ মুহূর্তে দুর্যোগ পরবর্তী দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে কাঠমান্ডুকে। প্রথমত, উদ্ধার অভিযান দ্বিতীয়ত, মরদেহ শনাক্ত।
আজও রাসুয়ার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে চীনা টানেল রেসকিউ টিম। যেখানে এখনও নিখোঁজ প্রায় ৬০০ শ্রমিক। দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে হেলিকপ্টারের সাহায্যে পৌঁছানো হচ্ছে ত্রাণ, ধাপে ধাপে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের। বসানো হয়েছে পুনর্বাসন ক্যাম্প।
মরদেহ অবস্থা, প্রযুক্তি, লোকবলের অভাবে এখনও শনাক্ত করা যায়নি উদ্ধারকৃত মরদেহের প্রায় ৯৬ শতাংশের পরিচয়। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের থেকে সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে ডিএনএ। পরে এ ডিএনএ-এগুলোই মরদেহ সঙ্গে মিলিয়ে হতাহতের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি, মরদেহ সংরক্ষণ ও ফরেনসিকের জন্য নেপালে নতুন বিশেষজ্ঞ দল ও সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে চীন। ভারত-চীনের পর নেপালে পৌঁছেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি উদ্ধারকারী দল।
এদিকে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। অথচ এজন্যে সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোর একটি নেপাল। বালেন্দ্র শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধারণ ত্রাণ বা অনুদান নয়, আইন ও নৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে কাঠমান্ডু।
এদিকে, তিব্বত অঞ্চলের দুর্গত এলাকায় আবারও প্রবেশের রাস্তা তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে চীন।





