থাইল্যান্ডে মাতাল হয়ে মারামারি; রণতরীতে ফেরত পাঠানো হলো দুই মার্কিন নাবিক

মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন | ছবি: সংগৃহীত
0

থাইল্যান্ডের পাতায়ায় মাতাল অবস্থায় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দুই নাবিককে জাহাজে ফেরত পাঠানো হয়েছে। টানা ২৮৬ দিন সাগরে মোতায়েন থাকার পর বিশ্রামের জন্য থাইল্যান্ডে নোঙর করা এই রণতরীর অবশিষ্ট সময় জাহাজের মধ্যেই কাটাতে হবে তাদের। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক দেড়টার দিকে শহরের একটি বারের কাছে দুই মার্কিন সেনার মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক থাই নাগরিক জরুরি কল করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে এবং পরে পাতায়ার হার্ড রক ক্যাফেতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-থাইল্যান্ড যৌথ অপারেশনস সেন্টারে নিয়ে যায়। এরপর তাদের রণতরীতে ফেরত পাঠানো হয়।

এক থাই কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ‘সামান্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, সেনারা মাতাল ছিলেন এবং কলকারী আশঙ্কা করেছিলেন যে ঝগড়া আরও বাড়তে পারে।

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত বুধবার পাতায়ায় পৌঁছায়। ইরান যুদ্ধে সহায়তা দিতে গত নভেম্বর থেকে টানা প্রায় নয় মাস সাগরে ছিল এই নিমিটজ-শ্রেণির রণতরি। এর আগে জাহাজে সরবরাহ সংকট ও মানসিক চাপের খবর বেরিয়েছিল। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিনের মধ্যে কয়েকজন জাহাজ থেকে লাফানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আগে এসব খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। রণতরীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল রবার্ট লকরান বলেছেন, পাতায়ায় অবস্থান নাবিক ও মেরিনদের বিশ্রাম ও শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ দিয়েছে।

পাতায়া শহর তার রাতের জীবনের জন্য পরিচিত। স্থানীয় মেয়র আশা করছেন, মার্কিন সেনাদের আগমনে অর্থনীতি চাঙা হবে। তবে মাদক সেবন ও কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমে অংশ নেয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেনারা মার্কিন আইন, নৌবাহিনীর নিয়ম ও থাইল্যান্ডের আইন মেনে চলবেন।

এএম