বিশ্লেষকদের মতে, গাজা বা লেবাননের পরোক্ষ লড়াই ছাপিয়ে এখন হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার লড়াইটিই মুখ্য হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে নৌ অবরোধের মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে। অন্যদিকে ইরান তাদের কৌশলগত শক্তির প্রধান অস্ত্র হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে জিম্মি করার কৌশল নিয়েছে।
ইরানের তেলের ট্যাংকারে সাম্প্রতিক হামলার সপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যতবার তারা এমন চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে।’ ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ করার নীতির জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে তেহরান।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালির বাইরে তারা একটি নতুন বিধিনিষেধযুক্ত অঞ্চল ঘোষণা করতে যাচ্ছেন, যেখানে প্রবেশ করা যেকোনো জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ফেলা হবে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মার্কিন এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এই পাল্টাপাল্টি সামরিক ও অর্থনৈতিক লড়াই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকেই অস্থিতিশীল করছে না, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে। হরমুজ প্রণালির এই ট্যাংকার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।





