সর্বাত্মক যুদ্ধে পরিণত হচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীর নতুন করে শুরু হওয়া লড়াই। কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণাল সংলগ্ন ইয়েমেনের উপকূলীয় ভূমির নিয়ন্ত্রণ নিয়েই মূলত দু'পক্ষের এ সংঘাত।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির দাবি, সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি শহরে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তারা দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ১২ ঘণ্টায় ৫৪টি বিমান হামলার অভিযোগও করেন গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি। এরই জেরে ইতোমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে সৌদি আরবে।
৫৪টি বিমান হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি সরকার। তবে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীকে সহায়তার অংশ হিসেবে তারা এ বিমান হামলাগুলো চালিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়। এছাড়াও, সম্প্রতি ইয়েমেন জুড়ে শুরু হওয়া তীব্র এ সংঘাতে কামানের আঘাতে তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হুথিদের দায়ী করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, গেল মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ সৌদি আরবের চার শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ৭৩ বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনাটি এ সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
হরমুজের মতোই, ইয়েমেনের তাইজ ও হুদাইদাহ প্রদেশে চলমান তীব্র লড়াই বাব আল-মানদেব প্রণালির সামুদ্রিক যান চলাচলকে ব্যাহত করবে বলে শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। হুথিদের নিষেধাজ্ঞার কারণে সৌদি জাহাজগুলো লোহিত সাগরের বন্দরগুলো থেকে আফ্রিকা হয়ে এশিয়ায় তেল রপ্তানির পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে, যাত্রাপথে হাজার হাজার কিলোমিটার বাড়তি দূরত্ব এবং আনুষঙ্গিক খরচও বেড়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি লেবাননের নাবাতিয়ার কাফার রেম্মান শহরে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে লেবাননে মার্কিন মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত কাঠামো চুক্তি সাত হাজার সাতশো বার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে সেদেশের সরকার।
এর মধ্যেও, দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলার তথ্য দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। বেসামরিক লেবানিজ হতাহতের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেবানন থেকে অবিলম্বে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।





