পাকিস্তানে জ্বালানি ভর্তুকি প্রকল্প চালু

পাকিস্তানে ভর্তুকি পাচ্ছেন বাইকাররা
পাকিস্তানে ভর্তুকি পাচ্ছেন বাইকাররা | ছবি: সংগৃহীত
0

জনগণের বিক্ষোভের মুখে দেশব্যাপী জ্বালানি ভর্তুকি প্রকল্প চালু করেছে পাকিস্তান সরকার। বুধবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি লিটারে ১০০ রুপি করে ভর্তুকি পাচ্ছেন তারা। যদিও সরকারের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় জ্বালানি সংকটে সিরিয়া, ফিলিপিন্স, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশে বিক্ষোভে নেমেছে সাধারণ মানুষ।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই অস্থিরতা চলছে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে। মাঝে কিছুটা কমলেও, সৌদি-হুতি সংঘাতের জেরে বাব আল–মানদেব প্রণালি ঘিরে উত্তেজনায় ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে জ্বালানির বাজারে। চলতি বছরে ৫ বারের মতো তেলের চাহিদার পূর্বাভাস সংশোধন করেছে ওপেক। ২০২৭ সালেও তেলের বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

চলমান এই সংকটের মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েও সুফল পায়নি পাকিস্তান সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় ভুগছে দেশটির জ্বালানি খাত। শীতকালে পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতের জন্য গড়ে প্রতিদিন ৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। যেখানে চলতি মাসে মাত্র দুটি এলএনজি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে।

জনগণের ক্ষোভের মুখে অনেকটা তড়িঘড়ি করে ভর্তুকি প্রকল্প চালু করলো পাকিস্তান সরকার। বুধবার মধ্যরাত থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি ত্রাণ প্রকল্প। যার আওতায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকরা একটি নির্দিষ্ট কোটায় প্রতি লিটার জ্বালানিতে ১০০ রুপি করে ভর্তুকি পাবেন। তবে এ সুবিধার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন বাসিন্দারা।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডাকা হয়নি পরিবহন সংগঠন, তেল বিপণনকারী সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ, কোন ধরনের আলোচনা ছাড়াই কিছু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে সরকার। যা যথেষ্ট নয় বলেও মত তাদের।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতায় কেবল পাকিস্তান নয়, জ্বালানি সংকটে ভুগছে উন্নয়নশীল এমনকি উন্নত দেশও। জ্বালানির দাম বাড়ায় আগস্টে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে। দেশটির খাদ্য শিল্প গবেষণা সংস্থার পূর্বাভাস, আগামী বছর যুক্তরাজ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশ ছাড়াতে পারে।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণার পরই বিক্ষোভে নামে সিরিয়ার বাসিন্দারা। বিভিন্ন শহরে যান চলাচল বন্ধ করে, টায়ারে আগুন ধরিয়ে রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা। যদিও সিরিয়া সরকার বলছে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামে লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না।

সংকট মোকাবিলায় প্রতি মাসে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করছে শ্রীলঙ্কার সরকার। জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে পেট্রলপাম্পগুলোতে। লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা। ফিলিপিন্সে জ্বালানি সংকটে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না জেলেরা। এছাড়া, গভীর সংকটে পড়েছে পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা।

ইএ