তৃণমূলের নাম-প্রতীক স্থগিত; উপনির্বাচনে লড়তে হবে ফ্রি সিম্বলে

তৃণমূলের নাম-প্রতীক স্থগিত
তৃণমূলের নাম-প্রতীক স্থগিত | ছবি: সংগৃহীত
0

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক ক্ষমতাসীন দল ‘তৃণমূল কংগ্রেসের’ নাম এবং দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ চিহ্ন স্থগিত করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। আসন্ন উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ‘ফ্রি সিম্বল’ নিয়ে লড়তে হবে মমতা ও ঋতব্রতপন্থি তৃণমূল শিবিরকে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় জানান, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করে রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের কোন জায়গা নেই। আর লড়াই যাওয়ার ঘোষণা মমতাপন্থি তৃণমূলের।

কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস নামে নতুন রাজনৈতিক দল গড়েছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেই থেকে দলটির প্রতীক ছিল জোড়াফুল। এরপর ২৮ বছর ধরে দলের নাম এবং প্রতীক ব্যবহার করেই একের পর এক নির্বাচনে লড়াই করেছিল তৃণমূল শিবির। কিন্তু ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ভাঙ্গন ধরে তৃণমূল। গড়ে ওঠে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের নতুন শিবির। যেখানে যোগ দেন দলের অনেক প্রবীণ নেতা।

অক্টোবরে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে জোড়াফুল প্রতীক পাবে কোন শিবির তা নিয়ে কয়েকদিন ধরে চলছিল বিস্তর আলোচনা।

গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর) এর সমাধানে দিল্লিতে মমতাপন্থি ও ঋতব্রতপন্থি তৃণমূলের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। পরে এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ দলের নাম এবং তাদের জোড়াফুল প্রতীকচিহ্নটি স্থগিত থাকবে।

আরও পড়ুন:

আসন্ন বিধানসভার উপনির্বাচনে দলের নাম ব্যবহার করা যাবে না, বেছে নিতে হবে অন্য নাম। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দেয়া ‘ফ্রি সিম্বলের’ মধ্যে থেকে কোনো একটি প্রতীককে বেছে নিতে হবে দুই শিবিরকে। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকেই পরিষ্কার যে রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই।’

আর কমিশনের সিদ্ধান্তের পর এক ফেসবুক পোস্টে মমতার ছবি শেয়ার করে লড়াই যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কালীঘাটপন্থি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।

এদিকে, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে তৃণমূল গঠন করেছিল। দলটির নিজস্ব কোনো মতাদর্শও নেই বলে অভিযোগ কৌস্তভ বাগচীর।

এফএস