ইতালির শিক্ষাব্যবস্থা ও অভিবাসননীতিতে যোগ হলো নতুন অধ্যায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি মন্ত্রিসভা সম্প্রতি একটি ডিক্রি- ল অনুমোদন করেছে।
এতে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই, ক্লাসরুমে তাদের সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। তবে ইতালিতে জন্ম নেয়া বা ইতোমধ্যেই দুই-তিন বছর স্কুলে পড়েছে এমন প্রবাসী শিশুরা এই সীমার বাইরে থাকবে। সরকারের দাবি, ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে সবাই পিছিয়ে পড়বে।
পাশাপাশি, নিরাপত্তা এবং নারী স্বাধীনতার অজুহাতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাবের মতো পূর্ণাঙ্গ মুখাবরণ পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে রাখা হয়েছে জরিমানার বিধান।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘ইতালিতে যাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছা রয়েছে, তাদের আমাদের ভাষা শিখতে হবে এবং আইন মেনে চলতে হবে। স্কুলে সবাইকে উন্মুক্ত মুখে আসতে হবে। সংস্কৃতির নামে কোনো তরুণীকে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা ইতালির নারী অধিকারের পরিপন্থি।’
তবে মেলোনি সরকারের এই পদক্ষেপে বিপাকে পড়তে পারেন প্রায় ৯ লাখেরও বেশি প্রবাসী ও অভিবাসী শিক্ষার্থী, যার মধ্যে একটি বড় অংশ বাংলাদেশি শিশু। প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, নির্দিষ্ট এলাকায় অভিবাসী বেশি থাকায় ৩০ শতাংশ কোটা পূরণ করা কঠিন হবে এবং অনেক শিশু দূরবর্তী স্কুলে পাঠাতে গিয়ে ঝরে পড়তে পারে।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে। এটিকে রাজনৈতিক প্রচারণা ও সমাজ বিভাজন হিসেবে দেখছেন অনেকে।
ইতালির বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী বাচ্চু বলেন, ‘স্কুলে নেকাব পড়ে যেতে পারবে না যে নীতি আসছে এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি নীতি। ইতালির কোনো স্কুলেই কেউ হিজাব পড়ে যায় না। এটি একটি রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা।’
ইতালির কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব লায়লা শাহ বলেন, এখানে অনেক প্রবাসী আছে। ৩০ শতাংশ কোটা হলে তারা কোথায় যাবে?’
এদিকে, ইতালির সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক বলে সতর্ক করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতিসের্জো মাত্তারেল্লা । অধ্যাদেশটি সংবিধানে স্বীকৃত মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করে কিনা, তা খতিয়ে দেখেই এতে স্বাক্ষর করবেন রাষ্ট্রপতি। পরবর্তীতে ৬০ দিনের মধ্যে এটি পার্লামেন্টে অনুমোদন পেতে হবে।
ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্জো মাত্তারেল্লা বলেন, ‘স্কুল সকলকে প্রস্তুত করে। স্কুল সবার জন্য উন্মুক্ত—সংবিধানের ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদে এমনটাই বলা হয়েছে। স্কুলকে বন্ধন সৃষ্টি করতে হবে, বিভেদ নয়।’
ক্লাসরুম কখনোই বিভাজনের ক্ষেত্র হতে পারে না— ইতালির প্রেসিডেন্টের এমন কড়া বার্তার পর এখনো নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় মেলোনি সরকার। এতে একদিকে ইতালির শিক্ষাব্যবস্থার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে প্রবাসী সন্তানদের পড়াশোনা কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





