বিশ্ববাজারে তেলের দর বাড়ায় রেকর্ড মুনাফা, ইরান সংঘাতের প্রধান লাভবান সৌদি আরব

সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)
সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ায় বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করছে সৌদি আরব। সংঘাতের কারণে তেল রপ্তানির পরিমাণ সাময়িকভাবে কমলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দর সেই ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি রিয়াদের তেলভিত্তিক আয় রেকর্ড পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ফরচুনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো রবিন ব্রুকসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭ ডলারে উঠেছে। ফলে যুদ্ধ শুরুর আগে সৌদি আরবের বার্ষিক তেল রপ্তানি আয় যেখানে ছিল ১৫ হাজার কোটি (১৫০ বিলিয়ন) ডলার, তা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার কোটি (২১০ বিলিয়ন) ডলারে। তেলের এই অতিরিক্ত দর বৃদ্ধি থেকে আসা আয় দেশটির মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশের বেশি। রবিন ব্রুকস উল্লেখ করেন, চলমান যুদ্ধের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে একমাত্র লাভবান দেশ সম্ভবত সৌদি আরব।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে রিয়াদ প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। মার্চ ও এপ্রিলে তা কমে ৪০ লাখ ব্যারেলে নামলেও চলতি মাসে তা আবার গড়ে ৫৫ লাখ ব্যারেলে উঠেছে। লোহিত সাগরের নৌপথ হুথি বিদ্রোহীদের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তায় পারস্য উপসাগরীয় রুট ব্যবহার বাড়িয়ে দেয় সৌদি আরব।

পাশাপাশি, সম্প্রতি ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ ‘পূর্ব-পশ্চিম ক্রুড অয়েল পাইপলাইন’ দিয়ে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। ব্লুমবার্গের তথ্যানুযায়ী, লোহিত সাগরের ইয়ানবু টার্মিনালে তেলের প্রবাহ প্রতিদিন ৩৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। এর ফলে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগর—উভয় পথ ব্যবহার করে তেল বিক্রির সুবিধা পাচ্ছে দেশটি।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসাইন জানান, পূর্ব উপকূল ও ইয়ানবু উভয় স্থান থেকে তেলের চালান স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হলে সৌদি আরবের মোট রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব সময়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ায় অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরান। যুদ্ধ শেষে সংঘাতবিধ্বস্ত ইরান যখন বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হতে যাচ্ছে, তখন তেলের বাজার থেকে আসা অতিরিক্ত রাজস্ব দিয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক শক্ত অবস্থান ধরে রাখছে সৌদি আরব।

এএম