লাওসে নতুন ঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন, প্রকাশ পেলো স্যাটেলাইট চিত্রে

A satellite image shows a new China-Laos joint training facility
A satellite image shows a new China-Laos joint training facility | ছবি: সংগৃহীত
0

লাওসে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত চীন-লাওস যৌথ প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে চীনের হালকা যুদ্ধবিমান ও সামরিক যানের উপস্থিতি দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্রে এ দৃশ্য ধরা পড়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বেইজিংয়ের সামরিক উপস্থিতির নতুন বিস্তার হিসেবে এটিকে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের তোলা ছবিতে দেখা গেছে, লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েনের বাইরে বান কিউন ঘাঁটির নির্মাণাধীন রানওয়ের ওপর অন্তত আটটি কে-৮ হালকা যুদ্ধবিমান ও দুই ডজনের বেশি সামরিক সহায়তা যান রয়েছে। গত সপ্তাহে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই যৌথ ঘাঁটি চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।

আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এই ঘাঁটির দ্রুত অগ্রগতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে রূপ নিতে পারে। দুই দশকের সামরিক আধুনিকায়নের পরও দক্ষিণ চীন সাগরের বাইরে কেবল কম্বোডিয়ার রিয়াম বন্দর এবং জিবুতিতে চীনের সামরিক সুবিধা রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক র‍্যাচেল ভ্যানডেনব্রিংক জানান, চীনের সঙ্গে সীমান্ত ও রেল যোগাযোগ থাকায় লাওসের এই ঘাঁটিটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে বেইজিংয়ের কৌশলগত প্রভাব বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক কলিন কো ও আলেকজান্ডার নেইল জানান, ছবিতে দেখা বিমানগুলো হংদু জেএল-৮ (যা কে-৮ নামেও পরিচিত) মডেলের। চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি দুই আসনবিশিষ্ট এই উড়োজাহাজ মূলত উন্নত প্রশিক্ষণ ও হালকা আক্রমণের কাজে ব্যবহৃত হয়। বিশ্লেষক আলেকজান্ডার নেইল সতর্ক করে বলেন, রানওয়েটি আরও বড় করার কাজ চলছে, যাতে ভবিষ্যতে এখানে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ইলেকট্রনিক নজরদারির মতো বড় যুদ্ধবিমানও পরিচালনা করা যায়।

কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, বান কিউনের যে স্থানে চীন তাদের ঘাঁটি গড়ছে, ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সেই স্থানটি অত্যন্ত গোপনে ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭০-এর দশকে লাওসে কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত এয়ার আমেরিকা এই রানওয়েটি ব্যবহার করতো।

এএম