আলোর সাহায্যে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ চালু বা বন্ধ করার পদ্ধতি অপটোজেনেটিকস আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। জার্মানির পিটার হেগেম্যান ও গেয়র্গ নাগেলের সঙ্গে যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। তবে বিজ্ঞানের এত বড় অর্জনের পরও ডাইসরথ আটকে আছেন একেবারেই সাধারণ এক পারিবারিক জীবনে।
পুরস্কার জয়ের খবরের পরও তার প্রতিদিনের সকালের রুটিনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এদিন সকালেও তিনি সন্তানদের জন্য স্কুলের টিফিন হিসেবে স্যান্ডউইচ বানিয়েছেন। ১৬ বছর বয়সি ছেলে হাডসনের জন্য চারটি স্যান্ডউইচ, ১০ বছরের সোফির জন্য একটি এবং মেয়ে এমার জন্য কিশমিশ দেয়া রুটিতে কাঠবাদামের মাখন ও মধু মাখিয়ে টিফিন তৈরি করেন।
নোবেল জয়ের খবর শোনার পর তিনি শুধু একজনকে ফোন করেছিলেন, তার মা লুইস ডাইসরথকে। এরপর বসার ঘরে বসে কফিতে চুমুক দিতে দিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সে সময় তার গেম অব থ্রোনস সিরিজের কফির মগে লেখা ছিল, ‘আমি এটাই করি। আমি পান করি এবং আমি অনেক কিছু জানি।’ ছোট মেয়ে সোফি ঘুম থেকে উঠে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে ওঠে, ‘বাবা, তুমি সব পুরস্কার জিতে নিয়েছ!’
মজার ব্যাপার হলো, বিজ্ঞান তার প্রথম ভালোবাসা ছিল না। বাবা-মা দুজনই বিজ্ঞানী হলেও ছোটবেলায় তার আগ্রহ ছিল লেখালেখি ও সাহিত্যে। পরে চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্র হিসেবে মনোরোগবিদ্যার ক্লাস করার সময় তিনি মানুষের মস্তিষ্কের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। গবেষণার পাশাপাশি তিনি এখনো বিষণ্ণতা ও অটিজমে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেন।
নিজের কাজ সম্পর্কে ১০ বছরের কোনো শিশুকে কীভাবে বোঝাবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি হলো আলোর সাহায্যে মস্তিষ্কে টোকা দেয়ার মতো একটি বিষয়। এত বড় অর্জনের পর কীভাবে উদ্যাপন করবেন, জানতে চাইলে এই বিজ্ঞানী বলেন, ‘কাজে ফিরে যাব। আমাদের এখনো অনেক কিছু আবিষ্কার করার আছে, অনেক মানুষকে সাহায্য করতে হবে।’
—স্ট্যানফোর্ড রিপোর্টের প্রতিবেদন অবলম্বনে





