কট্টর ডানপন্থি এএফডির উত্থান, তীব্র চাপে জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎস

ফ্রিডরিখ মের্ৎস
ফ্রিডরিখ মের্ৎস | ছবি: সংগৃহীত
0

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানিকে (এএফডি) রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে রাখার জন্য মূলধারার দলগুলোর তৈরি ‘প্রতিরোধ প্রাচীর’ ধসে পড়ার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সম্প্রতি দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে নিজ দলের নির্দেশ অমান্য করে মূলধারার কয়েকজন আইনপ্রণেতা এএফডির প্রার্থীকে রাজ্য আইনসভার স্পিকার নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে এই প্রথম কোনো রাজ্যে এএফডি স্পিকার পদ পেল।

গোপন ব্যালটে ভোট হলেও সন্দেহের তীর চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ) দলের আইনপ্রণেতাদের দিকে। তাদের ভোটদানে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ভোটাভুটিতে এএফডির তোবিয়াস রাউশ ৪৮টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এ ঘটনায় সিডিইউর জাতীয় সহসভাপতি কারিন প্রিয়ান বলেন, দলের কোনো আইনপ্রণেতা জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ সিডিইউর অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এই জয়কে ‘রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তন’ হিসেবে দেখছে এএফডি। দলটি এক বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় জরিপে এগিয়ে রয়েছে এবং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অভিবাসনবিরোধী ও রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকা এই দলটির স্যাক্সনি-আনহাল্ট শাখাকে চরমপন্থি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দলটি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়া ছড়াচ্ছে।

বার্লিনে চ্যান্সেলর মের্ৎসের জোট সরকারের ওপর চাপ এখন ক্রমাগত বাড়ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পেনশন ও কর সংস্কার নিয়ে শরিকদের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে। যদিও মের্ৎস এএফডির সঙ্গে যেকোনো ধরনের জোট বা সমঝোতার সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। এ সংকট নিয়ে রোববার ও সোমবার সিডিইউর শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকে বসতে যাচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সস্তা জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় জার্মানির শিল্প খাতের ক্ষতি এএফডির জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার এক বক্তব্যে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান তিক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার টিকে থাকার লড়াইকে কঠিন করে তুলছে।

এএম