কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই হামলায় মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজধানী কিয়েভ এবং ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘হামলাটি ছিল পুরোপুরি পরিকল্পিত এবং মাত্রা বিবেচনায় প্রদর্শনমূলক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি রাশিয়া কখনোই আগে এমন প্রকাশ্য অশ্রদ্ধা দেখায়নি। রাশিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে শক্তিশালী মনে করে না।’
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির চড়া দাম কমাতে গত সপ্তাহে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছিলেন যে উভয় পক্ষই জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে মস্কো বা কিয়েভ—কোনো পক্ষই এই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভ ও এর আশপাশের চারটি এবং খারকিভের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা রাশিয়ার ছোড়া ৩৯টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র ৪টি ভূপাতিত করতে পেরেছে। অস্ত্রের ঘাটতির মুখে দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জেটচালিত ড্রোনের বিরুদ্ধে কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার প্রমাণ মেলে এই পরিসংখ্যানে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেতস্কি জানিয়েছেন, বুধবারের রুশ হামলায় দেশটির পাঁচটি অঞ্চলের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে স্থবিরতার মধ্যে শীত মৌসুম শুরুর আগেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও হিটিং ব্যবস্থা ধ্বংস করতে রাশিয়া তাদের আক্রমণ জোরদার করেছে।
সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রুশ বোমাবর্ষণের জবাবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও লজিস্টিকস কেন্দ্রগুলোতে হামলা বাড়িয়েছিল ইউক্রেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করে আসছে যে ইউক্রেনের এসব হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ না করলে ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম গোয়েন্দা তথ্য দেয়া বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। এর আগে রাজধানীতে হামলার সময় পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে কোনো আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন জেলেনস্কি। তবে ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।





