বিভিন্ন জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি ও তার মিত্ররা কট্টর ডানপন্থি ও সামরিক মনোভাবাপন্ন বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সমানে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ২০২২ সালের নির্বাচনে লিকুদ পার্টি ৩২টি আসন পেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দলটির আসন কমে ২০ থেকে ২২টিতে নামার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিরোধী জোট এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় প্রধানের নাম ঘোষণা না করলেও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইসেনকট প্রধানমন্ত্রী পদে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে ইসরাইলের রাজনীতিকে চরম ডানপন্থার দিকে নিয়ে গেছেন নেতানিয়াহু। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইতজাক রবিনের শুরু করা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথ তিনি পুরোপুরি ভেস্তে দিয়েছেন। তার শাসনামলে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন ব্যাপক রূপ নেয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান এবং বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করার বিতর্কিত উদ্যোগ ইসরাইলজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
নেতানিয়াহুর বর্তমান সরকারে কট্টর জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের মতো বিতর্কিত কট্টরপন্থিরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৩৩ জন শিশু।
এদিকে গাজা যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের জেরে ইসরাইলি পার্লামেন্টের আরব সদস্য সামি আবু শেহাদেহকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বামপন্থি হাদাশ দলের বিদায়ী আইনপ্রণেতা আইদা তুমা-স্লিমান বলেন, ‘তিনি এমন এক ব্যবস্থা তৈরি করেছেন যেখানে আরব আইনপ্রণেতাকে নিষিদ্ধ করা হয়, অথচ নিজে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।’





