দেশটির প্রধান শ্রমিক সংগঠন তিউনিসিয়ান জেনারেল লেবার ইউনিয়ন (ইউজিটিটি) ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের ডাকে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে তিউনিসিয়ায় তীব্র অর্থনৈতিক সংকট চলছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দুর্বল নাগরিক পরিষেবা, ঘন ঘন বিদ্যুৎ ও পানি বিভ্রাট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধের সংকট।
২০২১ ও ২০২২ সালে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে, কয়েক ডজন বিচারককে বরখাস্ত করে এবং ডিক্রি জারি করে শাসনক্ষমতা নিজের হাতে নেন প্রেসিডেন্ট সাঈদ। বিরোধীরা তার এই পদক্ষেপকে অভ্যুত্থান আখ্যা দিয়ে আসছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের ওপর দমনপীড়ন জোরদার করেছেন সাঈদ। তবে স্বৈরাচারী শাসনের অভিযোগ অস্বীকার করে সাঈদ দাবি করেছেন, সামাজিক অস্থিরতা তৈরির জন্য তার বিরোধীরাই এই কৃত্রিম অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে।
রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, বেকার তরুণ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ঐতিহাসিক হাবিব বুরগিবা অ্যাভিনিউতে মিছিল করেন। ২০১১ সালের আরব বসন্তের গণ-অভ্যুত্থানের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই সড়কটি। কয়েক বছর ধরে বিরোধীদের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির সুযোগে সাঈদ ক্ষমতায় প্রভাব বিস্তার করলেও আজকের এই সম্মিলিত বিক্ষোভ তার শাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
সমাবেশে ইউজিটিটির প্রধান সালাহ এদ্দিন সালমি বলেন, ‘চুপ করে থাকা আর গ্রহণযোগ্য নয়। একজনের হাতে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করে কোনো রাষ্ট্র গড়ে উঠতে পারে না।’ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যার মধ্যে ছিল ‘ভয় নেই, ক্ষমতার মালিক জনগণ!’ এবং ‘কারাগার বন্দিতে ভরা, মানুষ অনাহারে!’ এ সময় ২০১১ সালের সেই ঐতিহাসিক স্লোগান ‘জনগণ এই শাসনের পতন চায়!’ নতুন করে ধ্বনিত হয়। তারা রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার হরণ বন্ধের দাবি জানান।
রাজধানী তিউনিস থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর স্ফ্যাক্স থেকে বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা ইয়াসিন ঘারসেলি বলেন, ‘অনেক হয়েছে, আর না! দেশ ধসে পড়ছে। আমরা বারবার বিদ্যুৎ ও পানি বিভ্রাটের শিকার হচ্ছি, একের পর এক সংকট আসছে। নিজের অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে এসেছি, দেশের শেষ কণ্ঠস্বর হলেও আমি পিছপা হব না।’
-768x402.webp)




