কিয়েভ লক্ষ্য করে তিন দফায় অন্তত ২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, এর মধ্যে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্রে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা যুক্ত ছিল। হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে দুইজন নিহত এবং পাঁচ শিশুসহ ৩৪ জন আহত হয়েছেন। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভের লোজোভা বাজারে রুশ হামলায় দুইজনের প্রাণহানি ও ৩৬ জন আহত হন। এ ছাড়া জাপোরিঝঝিয়ায় তিনজন এবং দিনিপ্রোপেত্রোভস্কে একজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার দাবি, রাতে মস্কো লক্ষ্য করে ইউক্রেন অন্তত ৬৩০টি ড্রোন ছুড়েছে। এর বেশিরভাগই ধ্বংস করা হলেও মস্কোর কাছে দুইজন আহত হন।
সহিংসতার মধ্যেই বেলারুশের বার্তা সংস্থা বেলতা জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে নিহত সেনাদের মরদেহ বিনিময় হয়েছে। রাশিয়া ২৫২টি এবং ইউক্রেন ২৫টি মরদেহ হস্তান্তর করে।
এদিকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের পর রাশিয়ার টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানান, তারা আগামী মাসে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। যুদ্ধ অবসানের পর দুই দেশ এবং ইউরোপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই আলোচনার লক্ষ্য হবে বলে জানান তিনি। পুতিন বলেন, ‘আমিও এর সঙ্গে একমত। দেখা যাক আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়।’ একই সঙ্গে নভেম্বরের শুরুতে আলোচনা শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কিও।
তবে সম্প্রতি কিয়েভের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলে ইউক্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা সচল করিয়েছেন। তবে জেলেনস্কির দাবি, স্টারলিংকের গতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধে যোগাযোগ ও ড্রোন পরিচালনায় স্টারলিংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উইটকফ সম্প্রতি নরওয়ের অসলোতে ইউরোপীয় ও ন্যাটো কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানালেও ক্রেমলিন এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবের একটি অংশে রাশিয়ার কাছে দনবাস অঞ্চল ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে ইউক্রেনকে ন্যাটোর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে যেকোনো ভূখণ্ড ছেড়ে দেয়ার শর্তকে শুরু থেকেই সরাসরি আত্মসমর্পণ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে কিয়েভ।





