তবে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। মাত্র ১৪ মিনিটের একটি বিপর্যয়কর সংবাদ ব্রিফিং, এরপর গণমাধ্যমে একাধিক তোতলা সাক্ষাৎকার এবং কর্মজীবনে নিজের আইনি যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়ার খবরের জের ধরে তাঁর এই আকস্মিক পতন ঘটে। মার্কিন ইতিহাসের আধুনিক যুগে কোনো হোয়াইট হাউস প্রেস সচিবের এত কম মেয়াদে বিদায় নেয়ার নজির আর নেই।
ট্রাম্প কীভাবে তাকে সরে যাওয়ার পথ দেখালেন?
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প নিজেই জাকারিয়ার সঙ্গে কথোপকথনের বিবরণ তুলে ধরে তার পদত্যাগের ইঙ্গিত দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি তোমার জায়গায় হলে নতুন করে ভাবতাম। কেটি, তোমার কি এটার প্রয়োজন আছে? আমি মনে করি না তোমার এটার প্রয়োজন আছে।’
ট্রাম্প আরও যোগ করেন, হয়তো প্রেস সচিবের পদটি ‘তার জন্য নয়’। প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউস দ্রুত বিবিসিকে নিশ্চিত করে যে জাকারিয়া তাঁর পদ থেকে সরে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলন ও আইনি যোগ্যতার বিতর্ক কী ছিল?
রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম নিউজমেক্স ও ফক্স নিউজে পরিচিত মুখ হিসেবে দেখা যাওয়া জাকারিয়া দায়িত্ব নেয়ার পরই প্রশ্নের মুখে পড়েন। গত মঙ্গলবার তার প্রথম সংবাদ ব্রিফিংটি স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৪ মিনিট, যার অর্ধেকেরও বেশি ছিল প্রস্তুতকৃত লিখিত বক্তব্য। তিনি মাত্র তিনজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ব্রিফিংয়ের দায়িত্ব ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। অনেক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা একে ‘অস্বস্তিকর’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এর পরপরই দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ২০১১ সালে আইন স্কুল থেকে পাশ করলেও ক্যালিফোর্নিয়ার বার পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন জাকারিয়া। তিনি কোথায় আইনচর্চার লাইসেন্স পেয়েছেন জানতে চাওয়া হলে বলেন, যখন তিনি চীনে চলে যান তখন তিনি এটি পান। তবে চীনসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের কোথাও জাকারিয়ার নামে আইনি লাইসেন্স থাকার প্রমান পাওয়া যায়নি। এই বিতর্কের পর ফক্স নিউজের শেন হ্যানিটির সঙ্গে জাকারিয়ার একটি সাক্ষাৎকার ট্রাম্প নিজে দেখেন, যা তার অবস্থানকে আরও দুর্বল করে দেয়।
সংকটকালে ট্রাম্পের জন্য এটি কতটা বড় ধাক্কা?
অনুকূল সময়ে প্রেস সচিবের ঘাটতি বোঝা না গেলেও যেকোনো সংকটের মুহূর্তে একজন দক্ষ প্রেস সচিবই প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে বড় ভরসা হন। এই মুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসন একাধিক রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে আসন ধরে রাখতে অনেক রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের নীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন।
অন্যদিকে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিমবার্লি গিলফয়েলের দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ এবং সামরিক মৃত্যুদণ্ড টিভিতে প্রচারের পরিকল্পনা বাতিলের মতো বিতর্কগুলো হোয়াইট হাউসকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।
ট্রাম্পের আগের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট সাংবাদিকদের আক্রমণ সামলাতে এবং প্রশাসনের বার্তা তুলে ধরতে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। আগস্টে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর লিভিট পদত্যাগ করলে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তুলনামূলক অনভিজ্ঞ জাকারিয়া তা পূরণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
এখন কী করবেন ট্রাম্প?
হোয়াইট হাউসের পদে আসার আগেই জাকারিয়া এক্স-এ লিখেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো মুখপাত্রের প্রয়োজন নেই। তিনি নিজেই নিজের সেরা প্রেস সচিব।’ ট্রাম্প প্রায় সময়ই নিজের সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা নিজে দিতে পছন্দ করেন।
ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, নতুন প্রেস সচিব খোঁজার জন্য তার ‘কোনো তাড়াহুড়া নেই’। তবে দ্বিতীয় মেয়াদের এই জটিল রাজনৈতিক সময়ে লিভিটের মতো একজন দক্ষ চাবুকহাতে সহকারীর অভাব ট্রাম্পকে বেশ ভোগাতে পারে।
—বিবিসির প্রতিবেদনে অবলম্বনে





