সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, সরকার গঠন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ইসরাইল

গাদি আইজেনকোট (বাঁয়ে) ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর (ডানে) কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো আসন পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে না
গাদি আইজেনকোট (বাঁয়ে) ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর (ডানে) কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো আসন পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে না | ছবি: সংগৃহীত
0

ইসরাইলে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট কারো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) অর্জনে সক্ষম হয়নি। এনপিআরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নেসেটের একক সর্ববৃহৎ দল হিসেবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি বেশি আসন পেলেও তার ডানপন্থি, অতি-ডানপন্থি ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স মিত্রদের জোট প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের নিচে আটকে গেছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো সমন্বিতভাবে বেশি আসন পেলেও মধ্য-ডানপন্থি সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠন প্রক্রিয়া বেশ জটিল হয়ে পড়েছে।

আইন অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট পার্লামেন্টে বিজয়ী দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। যে নেতা সবচেয়ে বেশি আইনপ্রণেতার সমর্থন পাবেন, তাকে সরকার গঠনের জন্য প্রথমে ২৮ দিনের সময় দেয়া হবে, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। বিরোধী দলগুলোর সুপারিশে আইজেনকট এগিয়ে থাকলেও সরকার গড়তে তাকে প্রধানত আরব প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হবে।

তবে প্রচার চলাকালে আইজেনকট বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি আরব পরিচালিত দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল কোনো জোট সরকার গঠন করবেন না। হামাস ও গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে আরব দলগুলোর অবস্থানের কারণে তাদের সঙ্গে জোট গড়া সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইসরাইলের জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব নাগরিক। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর বলয়ে থাকা দলগুলোর আসনসংখ্যাও সরকার গড়ার জন্য অপর্যাপ্ত হওয়ায় ইসরাইলের নতুন সরকার গঠন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এএম