একদিকে ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকি, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই যেন বাড়ছে ইরানি মার্কিন হামলার আশঙ্কা। এতে, সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পাশাপাশি ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।
গতকাল (মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। এসময় তিনি জানান, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা জেনে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ইস্যুটি আলোচনার টেবিলে। আমরা নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা অনুসন্ধানে কাজ করছি। সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা।’
শিগগিরই এক বিক্ষোভকারীকে ইরান মৃত্যুদণ্ড দেবে বলে শঙ্কা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর আগে, গ্রেপ্তার হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে শঙ্কা জানায় জাতিসংঘ।
তেহরানের বিক্ষোভকারীদের দেশপ্রেমিক অভিহিত করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। ইরানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা উস্কে দেয়ার জন্য ট্রাম্পকে দোষারোপ করে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছেন ইরানের প্রতিনিধি।
আরও পড়ুন:
চলমান উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইরানের নির্বাসিত যুবরাজের সঙ্গে সাক্ষাত করেন ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকভ। ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে রেজা পাহলভি, ইরান সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, ধোঁয়াশা কাটছে না সরকারবিরোধী আন্দোলনের মৃতের সংখ্যা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএন—এর দাবি, ইরানের চলমান আন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। তবে কানাডাভিত্তিক গণমাধ্যম সিবিসি জানায়, সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা ১২ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে স্বাভাবিক হচ্ছে ইরানের ল্যান্ডলাইন ও মোবাইল পরিষেবা । এতে করে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন তেহরানবাসী। তবে বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পরিষেবা। এমন অবস্থায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে ইলন মাস্কের স্টারলিংক। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় উদ্বিগ্ন ইরানের প্রবাসীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডার নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে অটোয়া। এছাড়া, ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে ফ্রান্সও। পাশাপাশি ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ তেহরানের আন্দোলনে ব্যাপক প্রাণহানির জন্য দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে নিন্দা জানায়।




