রাজনৈতিক প্রভাব ও আদর্শিক অবস্থান
মধ্যম সারির প্রভাবশালী এক ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি এমন সংস্কারপন্থীদের (Reformists) বিরোধিতা করেছেন, যারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি (Nuclear Program) সীমিত করার পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায় এবং যারা দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে আরও বেশি স্বাধীনতা পাবার দাবি জানিয়ে আসছে।
রয়টার্সের একাধিক সূত্র বলেছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি-IRGC)-এর সঙ্গে মোজতবা খামেনি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় তাকে বাড়তি প্রভাব দেয়। আলী খামেনির ‘গেটকিপার’ (Gatekeeper) হিসেবে আড়াল থেকে তিনি আগেই বেশ প্রভাব তৈরি করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নীতিনির্ধারণী সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরানে (United Against Nuclear Iran) আইআরজিসি–বিষয়ক গবেষণার প্রধান কাসরা আরাবি বলেন, ‘আইআরজিসির মধ্যে তার শক্ত অবস্থান ও সমর্থন রয়েছে—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মোজতবা যদি জীবিত থাকে, আলী খামেনির উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি তার।’ এছাড়া মোজতবাকে এরইমধ্যে এক ধরনের ‘মিনি সুপ্রিম লিডার’ (Mini Supreme Leader) হিসেবে কাজ করছেন বলেও বর্ণনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
শিগগির সিদ্ধান্ত আসতে পারে
নতুন নেতা নির্বাচনকারী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (Assembly of Experts) জানিয়েছে তারা সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি এবং শিগগিরই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। গতকাল (বুধবার, ৪ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে (State Television) জানিয়েছেন অ্যাসেম্বলির সদস্য আয়াতুল্লাহ আহমাদ খাতামি এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে তিনি এখনও আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের (Candidates) নাম বলেননি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হাতে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি, পররাষ্ট্রনীতি (Foreign Policy) এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা থাকে। পশ্চিমা শক্তিগুলো তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে বিরত রাখতে চায়। ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচিত হলে মোজতবাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাজনিত (US Sanctions) চাপ মোকাবিলা করতে হবে, যা দেশটির অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভে (Protests) নামতে প্রস্তুত—এমন ইরানিদের দিক থেকেও তাকে বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে।
আরও পড়ুন:
জীবন পরিচিতি ও পটভূমি
মোজতবা খামেনি ১৯৬৯ সালে ইরানের মাশহাদ (Mashhad) শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতা আলী খামেনি শাহবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবার সময়ে তিনি সেখানেই বড় হন। তরুণ বয়সে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধেও (Iran-Iraq War) অংশ নেন।
ইরানের শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষাকেন্দ্র কোম শহরের হাওজায় (Hawza in Qom) ধর্মীয় রক্ষণশীলদের অধীনে তিনি পড়াশোনা করেন এবং তার ধর্মীয় পদবি ‘হোজ্জাতোল ইসলাম’ (Hojjatoleslam)।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে (Official Position) তিনি কখনও ছিলেন না, যদিও তাকে পিতার ‘গেটকিপার’ হিসেবে দেখা হয়। তিনি সমর্থকদের সমাবেশে উপস্থিত হতেন, তবে জনসমক্ষে (Public Appearance) খুব কমই কথা বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (US Treasury Department) ২০১৯ সালে মোজতবার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারে কোনো পদে নির্বাচিত বা নিয়োগপ্রাপ্ত না হয়েও তিনি পিতার দপ্তরে কাজ করেছেন। তিনি ‘আনুষ্ঠানিক ক্ষমতায়’ সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিত্ব করতেন।
ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়, খামেনি তার কিছু দায়িত্ব মোজতবার কাছে দিয়েছিলেন। সেখানে আরও বলা হয়, মোজতবা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের (Quds Force) কমান্ডার ও বাসিজ (Basij)—গার্ডস–সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় মিলিশিয়া—এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে কট্টরপন্থী মাহমুদ আহমাদিনেজাদের (Mahmoud Ahmadinejad) আকস্মিক উত্থানের পেছনে মোজতবার ভূমিকা ছিল বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। ২০০৯ সালে বিতর্কিত নির্বাচনে আহমাদিনেজাদ দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হলে মোজতবা তাকে সমর্থন দেন; এরপর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়, যা বাসিজ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী দমন করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবারের বিমান হামলায় (Airstrike) মোজতবার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। তিনি ছিলেন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার গোলামালি হাদ্দাদ-আদেলের (Gholam-Ali Haddad-Adel) মেয়ে।
আরও পড়ুন:





