ভারতের স্বাধীনতার প্রায় ৭৯ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বিজেপি। ম্যাজিক ফিগার নয়, রেকর্ড ২০৭ আসনে তৃণমূলকে ধরাশায়ী করছে গেরুয়া শিবির। ভারতীয় জনতা পার্টির এ সাফল্যের পেছনে থাকা বিভিন্ন ইস্যুর চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে এখনও।
এমনই এক বিশ্লেষণ হাজির করেছে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের স্ক্রল। যেখানে বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জেতা আসনগুলির মধ্যে ১০৫টিতে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা, দলটির জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি। এ ১০৫টি আসনের মধ্যে ৮৬টিতেই বিজেপি আগে কখনও জেতেনি।
মূলত নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রমের কারণে রাজ্যের প্রায় ৯১ লাখ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন। ৬ মাস ধরে চলা এ প্রক্রিয়ায়, রাজ্যের মোট ভোটারের ১২ শতাংশ কমে যায়।
আরও পড়ুন
দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর বিধানসভা আসন বহু দশক ধরে ছিলো বামদের দখলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও এ আসনটি তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআইএমের মধ্যে হাতবদল হতে থাকে। কিন্তু এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাদবপুর আসনের ভোটার তালিকা থেকে মোট ৫৬ হাজারের বেশি নাম বাদ দেয়া হয়। এবারের নির্বাচনে বিজেপি প্রথমবারের মতো এ আসন জেতে, আর তাদের জয়ের ব্যবধান ছিল এর অর্ধেকেরও কম, মাত্র ২৭ হাজার ৭১৬ ভোট।
আনা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাহরণও। ভবানীপুর আসনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হেরে যান তিনি। এ আসনে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৫১ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেয়া হয়।
প্রতিবেদনে বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস আসনের উদাহরণও আনা হয়েছে। ২০২১-এ ইন্দাসে বিজেপি জিতলেও ২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এ আসনে বিজেপিকে টেক্কা দেয় ৯ হাজার ভোটে। এরপর এসআইআরের কারণে এ আসনে বাদ পড়ে ৭ হাজার ৫১৫ জন ভোটার। ২০২৬-এ এসে দেখা গেল ৯০০ ভোটের ব্যবধানে ইন্দাসে জয়ী গেরুয়া শিবির। প্রশ্ন ওঠে, বাতিল এ সাড়ে ৭ হাজার ভোটারই কি ২০২৪-এ তৃণমূলকে ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতিয়েছিল?
আরও জানা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে নিজেদের দখলে থাকা ১২৯টি আসনে বিজেপির কাছে হেরেছে তৃণমূল। কিন্তু গেল বিধানসভা নির্বাচনে জেতা ৭৭ আসনের কোনোটাই হারেনি গেরুয়া শিবির। স্ক্রলের বিশ্লেষণ আরও বলছে, ১০৫টির মধ্যে ৮৬টি সুইং আসনে বিজেপির জয়ের ব্যবধান ছিল এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যার চেয়ে কম।
২০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো টালিগঞ্জ আসনে হেরেছে তৃণমূল। বিজেপি প্রার্থী সেখানে ৬ হাজার ১৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। অথচ এসআইআর প্রক্রিয়ায় ওই আসনের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল ৩৭ হাজার ৮৮৯ জনের নাম।
-768x402.webp)



