১৫ বছরের শাসনের অবসান; পশ্চিমবঙ্গে বদলে গেলো মমতার ভাগ্য

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | ছবি: সংগৃহীত
0

১৫ বছর পর একরকম হঠাৎ করেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বদলে গেলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়তি। আর তৃণমূল বাদ দিয়ে কীভাবে বিজেপির বিশ্বস্ত কান্ডারি হয়ে ওঠলেন শুভেন্দু অধিকারী? ভাইপো নির্ভরতা রাজনীতিই তবে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো মমতার জন্য! যার কারণে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার মসনদ আজ (শনিবার, ৯ মে) থেকে শুভেন্দু অধিকারীর দখলে।

২০১১ সাল। পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনামলের অবসান ঘটিয়ে সেদিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জোড়া ফুলের বিশ্বস্ত কান্ডারি হিসেবে সেদিন উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও।

রাজনীতির অদ্ভুত খেলা ১৫ বছর পর আজকের চিত্র একেবারেই উল্টো। ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মমতা নেই; আছেন শুভেন্দু অধিকারী। জোড়া ফুল নয়; বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে পদ্মফুল ফুটিয়ে শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। অথচ একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিদি ডেকে মঞ্চে গলা ফাটাতেন শুভেন্দু অধিকারী।

তৃণমূলের অন্দরে এমন কি ঘটেছিলে; যার কারণে মমতার ঘনিষ্ঠ মিত্র থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেছিলেন শুভেন্দু। যার কারণে এবারের নির্বাচনে বিজেপির কাছে ক্ষমতার মসনদ হারানোর মধ্য দিয়ে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হলো তৃণমূলকে। এক্ষেত্রে অনেকেই বলছেন, ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে দল চালানোয় মমতার নিয়তি হয়ে উঠেছিলেন শুভেন্দু। একাধিক ঘটনাও তুলে ধরেছেন অনেকে।

আরও পড়ুন

জানা গেছে, শুভেন্দুর মনে ক্ষোভের জন্ম নিয়েছিলো ২০১১ সাল থেকেই। ওই বছর, অভিষেককে প্রধান করে তৃণমূলের নতুন সংগঠন যুবার জন্ম হয়।

মমতা জানান, তৃণমূলের যুব সংগঠনই হল ‘যুবা’। কিন্তু তার আগে থেকেই তৃণমূলের যুব সংগঠন হিসেবে যুব তৃণমূল ছিল; যার সভাপতি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যুবা তৈরির কিছু দিনের মধ্যেই শুভেন্দুকে যুব তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। দায়িত্ব দেয়া হয় সৌমিত্র খাঁকে। অনেক জ্যেষ্ঠ নেতার দাবি; এসবই ছিলো যুব তৃণমূলকে বিলুপ্ত করার মাধ্যমে শুভেন্দুকে ওই সংগঠন থেকে একেবারে সরিয়ে দেয়ার কৌশল।

এরপর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অনেক জ্যেষ্ঠ নেতার কথা না শুনে, ভাইপো অভিষেককে ডায়মন্ড হারবার থেকে নির্বাচন করার টিকিট দিয়েছিলেন মমতা। ২০১৫ সালে শুভেন্দুর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে চণ্ডীপুরের সভায় এক শ্রোতার চড় খেতে হয়েছিল অভিষেককে। শুভেন্দুই ওই কাজ করিয়েছিলেন বলে তখন দাবিও করেছিলো অভিষেকের যুবা শিবির। যদিও তার কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে ওই ঘটনা তিক্ততা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও ২০১৯ সাল পর্যন্ত মমতার সঙ্গে সম্পর্কটা টিকে ছিল শুভেন্দু অধিকারীর।

কিন্তু ২০১৯ সালে অভিষেকের পরামর্শে আই-প্যাককে দলের পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে নিয়োগ করেছিল তৃণমূল। তখন শুরু হয় জেলাভিত্তিক পর্যবেক্ষক ব্যবস্থা’র সংস্কার। এতে জটিলতা আরও বেড়ে যায়। কারণ তখন শুভেন্দু ছিলেন জঙ্গলমহলের বেশ কয়েকটি জেলাসহ উত্তর দিনাজপুর, মালদহ এবং মুর্শিদাবাদের পর্যবেক্ষক। তৃণমূল পর্যবেক্ষক হিসেব বাদ দেয়ার পর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু।

বিজেপিতে যোগ দিয়েই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং চলতি বছরের নির্বাচনে ভবানীপুরে মমতাকে হারিয়ে জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। আজ থেকে শুভেন্দুর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার মসনদ বিজেপি হাতে। মমতার নিয়তিতে যোগ হলো পরাজয়ের গ্লানি। আর এসব কিছুর জন্য অভিষেককেই কাঠগড়ায় দাড় করাচ্ছেন তৃণমূলের অনেক নেতা।

জেআর