তৃণমূলে ভাঙনের গুঞ্জন; বাড়ছে রাজনৈতিক জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেস
তৃণমূল কংগ্রেস | ছবি: সংগৃহীত
0

তৃণমূলের অন্দরে হঠাৎ এমন কী বিস্ফোরণ ঘটলে যে, বিধায়কদের ছাপিয়ে এবার সাংসদরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আস্থা রাখছেন না। সূত্রের খবর বলছে, তৃণমূলে অনেক সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে ওঠে পরে লেগেছেন। দলের মধ্যে ভাঙনে কে বা কারা দায়ী; কোন কোন ইস্যুতে দুই টুকরো হলো তৃণমূল কংগ্রেস?

বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ১৫ বছরের ক্ষমতা হাতছাড়া হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের। এরপরই তাসের ঘরের মতো দুমড়ে মুচড়ে ভেঙে পড়ল দলটি।

১৮তম বিধানসভায় বিরোধীদলনেতা হিসেবে নিজের পছন্দের কাউকে বসাতেও ব্যর্থ হলেন মমতা। এরইমধ্যে বিরোধীদলনেতার নাটাই নিজের করে নিয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

দল ভেঙে দুই টুকরো হতেই এক ধাক্কায় বিলুপ্ত করে দেয়া হয় সব সাংগঠনিক পদ। মমতার আলোচিত ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এখন তৃণমূলের সাধারণ সদস্য। তবুও দলের মধ্যে চলমান ঝড়ো হাওয়া থামাতে পারছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবার শোনা যাচ্ছে; পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আগুনের আঁচ গিয়ে লেগেছে ভারতের সংসদেও। যার ফলাফল আরও ভয়ানক হওয়ার শঙ্কা। কারণ সূত্রের বরাতে এনডিটিভি ইতোমধ্যেই খবরে প্রকাশ করেছে যে, দলবদলের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত ২০ জন সাংসদ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। যা আরও বেশি চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

দলের অন্দরের এমন কী বিস্ফোরণ ঘটলো; যার কারণে ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করা তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৬ সালে এসেই ভেঙে খানখান হয়ে গেলো?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়; মমতার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে বিদ্রোহী নেতারা। তার চক্রান্তের কারণে; পশ্চিমবঙ্গেরে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া এবার বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর পেছেনে অভিষেক ও তার অনুসারীদের সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম অন্যতম বড় কারণ ছিলো বলেও বিক্ষুব্ধ নেতারা দাবি করছেন।

কিছুদিন আগে অভিষেকসহ অনেক তৃণমূল নেতার ওপর পচা ডিম ও জুতা নিক্ষেপও করেছেন সাধারণ জনতা। সেটি নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। কারণ কেউ বলছে, তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতারা এসব করিয়েছে, আবার এর জন্য বিজেপিকে দায়ী করতে দেখা গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

আরও পড়ুন:

দল ভেঙে দু’টুকরো হওয়ার পেছনে কি শুধু এসব কারণই যথেষ্ট? না; সবশেষ বিস্ফোরণ ঘটেছিলো বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ ঘিরে। যেই সুপারিশ পত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি স্বাক্ষর জাল স্বাক্ষর করেছেন বলে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করে দল থেকে বহিষ্কৃত হতে হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অবশেষে তাই সত্য প্রমাণ হলো; ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই ঋতব্রতকে সমর্থন দিয়ে করেছেন বিধানসভার বিরোধীদলের নেতা।

এ অবস্থায় দলকে নতুন করে ঢেল সাজানোর মধ্য দিয়ে; সংকটে ডুবে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে কী আদৌ টেনে তুলতে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধায়। বিক্ষুব্ধ ত্যাগী নেতাদের কী জায়গা হবে নতুন কমিটিতে? নাকি জোরা ফুলে ঐক্য অধারাই থাকে তাই এখন দেখার বিষয়।

এসএস