এভাবেই লাঠিচার্জ করে ভেস্তে দেয়া হয় ককরোচ জনতা পার্টির চলো সংসদ পদযাত্রা। জননিরাপত্তায় সভা সমাবেশ নিষিদ্ধে পুলিশের জারি করা ১৬৩ ধারা অমান্য করে সংসদ ভবন অভিমুখে যাত্রা করে জনতা পার্টি। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী।
শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির পদযাত্রার আহ্বানে দিল্লির যন্তরমন্তরে হাজির হয় কয়েক হাজার মানুষ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেয় অভিভাবক, কর্মী ও রাজনৈতিক নেতারাও। তবে দিল্লির সংসদ ভবন অভিমুখে যাত্রা শুরুর আগেই তাদের আটকে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতার অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘গেল ১০-১২ বছর ধরে এ ভারতের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে। যন্তরমন্তরে এক সমাবেশেই দেশের গণতন্ত্রকে আবার জীবিত করে তুলেছে দেশের তরুণ সমাজ।’
আরও পড়ুন:
আগের দিন তাদের সমাবেশ ঘিরে দিল্লিজুড়ে জমায়েত নিষিদ্ধ করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে পুলিশ। অনুমতি দেয়া হয়নি সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ও মিছিলের। যন্তরমন্তরের নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য জায়গায় নিষিদ্ধ করা হয় জমায়েত। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেয় পুলিশ। সমাবেশস্থলে মোতায়েন করা হয় কয়েকশ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী।
নিরাপত্তার শঙ্কায় বন্ধ করে দেয়া হয় দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি স্টেশন। এছাড়া রাজধানীর কিছু অংশে বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও। এদিকে সিজেপি’র দাবি তাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘পুলিশ আমাদের মারধর করেছে। তবে এ দেশের তরুণ সমাজের জন্য রক্ত দিতেও প্রস্তুত আছি।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলাম। পুলিশ এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে।’
আরও পড়ুন:
যদিও দিল্লি পুলিশ বলছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদযাত্রা নিয়ে এগিয়ে গেলে বিক্ষোভকারীদের বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন। দিল্লিজুড়ে নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যন্তরমন্তর থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট আটকে দেয়া হয় ব্যারিকেড দিয়ে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি দেশটির তরুণ সমাজকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করার পর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন হিসেবে গড়ে ওঠে ককরোচ জনতা পার্টি। অল্প দিনেই সমর্থন কেড়ে নেয় বিভিন্ন বিরোধী রাজনীতিবিদ, কর্মী, শিল্পী ও ক্রীড়াবিদদের।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে শুরু হয় তাদের আন্দোলন। জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আন্দোলনের হাল ধরেন ৩০ বছর বয়সী দীপকে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে গেল ২৮ জুন যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
এদিকে, টানা ২১ দিন ধরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। তিনি সেখানেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরে তার স্ত্রীর আবেদন বাতিল করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে করা আপিলের শুনানিতে রাজি হয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।





