কেউ পান করছেন ঠান্ডা পানীয়, কেউবা প্রশান্তির আশায় বসে আছেন কুলিং ফ্যানের কাছে, আবার অনেকে শিশুসহ ভিড় করছেন লেকের ধারে। অব্যাহত তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে এক পরশ শীতলতার খোঁজে ফ্রান্স ও ইতালির বাসিন্দারা।
গ্রীষ্মকাল শুরুর কয়েকদিন আগেই তাপমাত্রার ঊর্ধ্বমুখী পারদে নাকাল ইতালির জনজীবন। গেলো বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দেশটিতে সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার অফিসের পূর্বাভাস, সামনের দিনগুলোতে ইতালির বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আবহাওয়ার এই প্রখর আচরণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রোমসহ ইতালির বিভিন্ন শহরে ভ্রমণরত পর্যটকদের মাঝে।
পর্যটকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘খুব গরম। কিছুক্ষণ হাঁটলেই গা ঘেমে যাচ্ছে। কিন্তু মিথ্যা বলতে চাই না, রোদ দারুণ উপভোগ করছি।’
তবে অব্যাহত তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ অনেকে পর্যটক।
আরও পড়ুন:
ঘুরতে আসা ব্যক্তিদের একজন বলেন, ‘এটা বেশ অসহ্য। আমি ভারত থেকে এসেছি। আমরা গরমে অভ্যস্ত। ইতালিতে এত তাড়াতাড়ি গরম পড়বে আশা করিনি। আবহাওয়া আরেকটু শীতল হতে পারতো।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমাদের সাড়ে এগারো মাসের বাচ্চা আছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ। সবসময় বাচ্চাকে ছায়াতলে রাখছি। কিছুক্ষণ পরপর ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিচ্ছি।’
গরমে বিপর্যস্ত ইউরোপ আরেক দেশ ফ্রান্সও। শুক্রবার (১৯ জুন) দেশটির বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ফ্রান্সের আবহাওয়া দপ্তর বলছে, সোমবার নাগাদ তাপমাত্রার পারদ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এরইমধ্যে সতর্কতা স্বরূপ ফ্রান্সের বিভিন্ন অংশে ট্রেন পরিষেবা ও শ্রেণীকক্ষ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘গ্রীষ্মকালে গরম পড়বে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু জুনেই এমন তাপমাত্রার সম্মুখীন হবো ভাবতে পারিনি।’
পর্যটকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এর আগেও এই সময়টাতে প্যারিসে এসেছি। কিন্তু এবারের মতো দমবদ্ধকর পরিস্থিতিতে আগে কখনও পড়তে হয়নি।’
এর আগে গেল মে মাসেও আরেকদফা হিটওয়েভের সাক্ষী হয়েছিল ফ্রান্স। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে আগামী বছরগুলোতে আবহাওয়ার প্যাটার্নে আসবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এবং ঘন ঘন তাপপ্রবাহের সাক্ষী হবে ইউরোপবাসী।




