রুশ ভূখণ্ডজুড়ে হাজারের বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলে রোববার রাতভর। কয়েকশো ড্রোন আঘাত হেনেছে শুধু রাজধানীতেই, হতাহত অনেকে।
মস্কোতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা এটি, জানান শহরের মেয়র। হামলার শিকার মস্কোর তেল শোধনাগার এবং একটি আবাসিক ভবন।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমি বের হচ্ছিলাম। বড়জোর ২০ পা এগোতেই বিস্ফোরণ। চতুর্দিকে ভাঙা কাঁচ, আতঙ্কে মানুষ ছুটছে, চিৎকার-চেঁচামেচি! ঘুরে তাকাতেই দেখি, প্রবেশপথ সব উড়ে গেছে। চারদিকে সব ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে।’
অন্য একজন বলেন, ‘আহতরা আছেন, কেউ মারাও গেছেন। নিশ্চিতভাবে জানি না। জরুরি পরিষেবা কর্মীরা কাজ করছেন, আমরা যেতে পারছি না। অনেকে আহত হয়েছেন। ভবনের ভেতরে আরও কতজন আটকে ছিলেন, কে জানে।’
আরও পড়ুন:
হামলার মধ্যেই শেষ হলো রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর, রাশিয়ার প্রথম নির্বাচন এটি। যদিও হামলায় ভয়াবহতার খবরে ম্লান নির্বাচনি আবহ।
প্রাথমিক ফলে আভাস, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দল, ক্রেমলিন পার্টি হিসেবে পরিচিত, ইউনাইটেড রাশিয়া। কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ- স্টেট ডুমার ২২৫ আসনের বেশিরভাগেই জয়ের পথে দলটি। ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৮ শতাংশ।
ভোটদাতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘নির্বাচন কোনো পরিবর্তন বয়ে আনবে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমনটা ভাবতে পারছি না আমি। কারণ সবকিছু অনেক আগে থেকেই ঠিক করা আছে।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমি সবসময়ই ভোট দিই। বলতে পারেন যে মাতৃভূমির প্রতি নিজের দায়িত্ব পালনে ভোটকেন্দ্রে আসি। যতটা বলা হয়, পরিস্থিতি ততটাও খারাপ বলে মনে হয় না আমার। তবে অবশ্যই আরও ভালো কিছুর আশা সবসময় থাকে।’
আরও পড়ুন:
পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্কের মারিওপোল, লুহানস্ক, খারসন, ঝাপোরিঝিয়াসহ সাড়ে চার বছরের যুদ্ধে রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলগুলো পুরোপুরি মস্কোর নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও, রুশ সেনাদের প্রহরায় প্রথমবার রুশ নির্বাচনে অংশ নেন এসব অঞ্চলের অনেক বাসিন্দা, যেখানে ভোটার সংখ্যা ৩৫ লাখের বেশি। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি বিষয়টি।
রাশিয়ার মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেন, ‘প্রতিপক্ষ নির্বাচন ব্যাহত করতে এবং রাশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দিতে সম্ভাব্য সবকিছুই করেছিল। বিশেষ করে মস্কোতে। বিগত দুই মাসে হাজার হাজার ড্রোন এদিকে তাক করা ছিল। কিন্তু শত্রুর উদ্দেশ্য সফল তো হয়নি, বরং উল্টো হয়েছে। স্টেট ডুমার নির্বাচনে মস্কোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ।’
১১ কোটির বেশি ভোটার ছিল এবারের নির্বাচনে। এর মধ্য দিয়ে ক্রেমলিনে আরও জোরদার হবে পুতিন প্রশাসনের আধিপত্য। যদিও এই নির্বাচনে অংশ নেননি টানা তিন মেয়াদে, ১৪ বছর ধরে দেশ শাসন করা পুতিন। পঞ্চম মেয়াদে দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রপ্রধান অংশ নেবেন ২০৩০ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে।
এদিকে ইউক্রেনে নতুন করে আরও পাঁচটি অঞ্চল দখলের দাবি করেছে রুশ সেনারা। রাজধানী কিয়েভের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়েছে একটি ওয়্যারহাউজসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়।





