চোখের নিমেষে অর্ধশতের বেশি মানুষের মৃত্যু- বুধবারের সকালটা স্পেনবাসীর জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের। কিন্তু সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পরিস্থিতি। বিক্ষোভের আগুনে জ্বলে ওঠে মাদ্রিদ। ২০১৩ সালের পর ইউরোপের ইতিহাসে ভয়াবহতম বুলেট ট্রেন দুর্ঘটনা, যার মূলে রেলওয়ে সিস্টেমে চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা। পেদ্রো স্যানচেজ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী মাদ্রিদে কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো ব্যাপক শো-ডাউন।
এক পর্যায়ে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বাইরে জড়ো হন ৫০০ বিক্ষোভকারী। পুলিশের দিকে বোতল ও ফ্লেয়ার ছুঁড়ে মারলে শুরু হয় ব্যাপক সহিংসতা। বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরাতে একের পর এক টিয়ার শেল ছোড়ে পুলিশ।
৯ মাসের ব্যবধানে একই রেলরুটে পরপর দু’টি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সিগন্যালিং সিস্টেমের ত্রুটি আর ট্রেন কন্ট্রোলারের ভুল সিদ্ধান্তেই এমন দুর্ঘটনা। ২৪ ঘণ্টার পার হওয়ার আগেই তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে এসব জানিয়েছেন স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু করেছে স্পেন সরকার।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার দিকে টলেডো প্রদেশে একই দিকে আসা দু’টি ট্রেনের মধ্যে মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে সংঘর্ষ হয়। এসময় লস ইবেনেস এবং উর্দা শহরের মধ্যবর্তী বাঁধের ওপর থেকে দু’টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে নিচে পড়ে যায়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ট্রেন দু’টিতে অন্তত ৫৪৪ যাত্রী ছিলেন।
সামনের ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘হঠাৎ করে ট্রেনটা পেছন থেকে আমাদের ধাক্কা দিল। সবকিছু ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। কয়েকজন শূন্যে ছিটকে পড়ে। তারা খুব গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমাদের এত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এটা কীভাবে ঘটতে পারে? এমনটা একেবারেই স্বাভাবিক না। আমাদের কোনোভাবে সতর্কও করা হয়নি।’
দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌছায় উদ্ধারকারীদল, দমকল কর্মী ও জরুরি হেলিকপ্টার। আহত অবস্থায় দেড় শতাধিক যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন:
দুর্ঘটনার পর জনগণের কাছে রক্তদানের আবেদন জানিয়েছে স্থানীয় ব্লাড ব্যাংকগুলো। আহতদের মধ্যে অনেকেই তীব্র রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন অপারেশন সিডিউল স্থগিত করেছে।
গেল জানুয়ারি মাসে এই রেলপথেই একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছিল, এতে প্রাণ যায় ৪৬ জনের। এত কম সময়ের ব্যবধানে একই রুটে একই প্যাটার্নের দুর্ঘটনা- প্রশ্ন উঠেছে সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে। বিশ্লেষকরাও মনে করেন, ২৯ নভেম্বর নির্বাচনের আগে এই ঘটনা বড় ধাক্কা হতে পারে স্যানচেজ প্রশাসনের জন্য।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সব সরকারি কর্মসূচি স্থগিত করেছেন এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচারণাও সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বিরোধীদলগুলো। প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ জানিয়েছে স্পেনের রাজপরিবার। শোক ও সহমর্মিতার বার্তা দিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা।





