গোটা বিশ্ব এখন ভাসছে ফুটবল উন্মাদনায়। ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে এরই মধ্যে দেশে দেশে চলছে নানা আয়োজন। বাহারি রঙ ও বর্ণিল সাজে সেজেছে আয়োজক দেশের শহরগুলো।
ফুটবল বিশ্বকাপে সেই উন্মাদনায় শামিল হয়েছে গাজার শিশুরাও। যুদ্ধে বিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও গাজার শিশুরা খুঁজে নিচ্ছে নিজেদের বিনোদন। তাদের খেলার মাঠ নেই। ভাঙা ইট-পাথর ও ধ্বংসাবশেষের মধ্যেই হাতে তৈরি ফুটবল নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছে শিশুরা। পরিত্যক্ত কাপড়, সুতা, ফোম, ও পলিথিন মুড়িয়ে তাতে টেপ লাগিয়ে তৈরি করেছে ফুটবল। ধসে পড়া ভবন ও তাঁবুর পাশে সামান্য খোলা জায়গা হয়ে উঠেছে তাদের ফুটবল খেলার মাঠ।
এক শিশু বলে, ‘আমরা নিজের হাতেই এই ফুটবল তৈরি করেছি। কাপড়, ফোম ও বিভিন্ন জিনিস দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। ওজন হওয়ার জন্য ভেতরে একটি পাথরও দিয়েছি।’
আরও পড়ুন:
গাজার শিশুদের জন্য বিনোদন হয়ে ওঠেছে বিলাসিতা। তাই ধ্বংস হওয়া ভবন ও ছেড়া তাঁবুর আড়ালে লুকোচুরি খেলা এখন তাদের বিনোদনের অংশ। সন্তানদের এক টুকরো নিরাপদ খেলার জায়গা না দিতে পেরে আক্ষেপ জানান অভিভাবকরা।
এক অভিভাবক বলেন, ‘এটাই গাজা উপত্যকার বাস্তবতা। বাচ্চাদের হাতে কোনো খেলনা নেই। তাদের খেলার জন্য একটু নিরাপদ জায়গাও নেই।’
এদিকে গেলো ১১ মে লা লিগায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ছাদ খোলা বাসে বিজয় উদযাপনে ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ান বার্সেলোনা তারকা ইয়ামাল প্যারেডে লামিন ইয়ামাল। এরপর থেকেই তিনি হয়ে ফিলিস্তিনিদের কাছে হয়েছে হিরো।
গাজা উপত্যকার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শোভা পাচ্ছে ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে লামিনের বিজয় উল্লাসের ছবি। ভাঙা দেয়ালে এই ফুটবল তারকার ম্যুরাল এঁকে তাকে সম্মান জানাচ্ছেন গাজার শিল্পীরা।
চরম মানবিক সংকটের মধ্যে শিশুদের জন্য একটি নতুন খেলনা কেনার সক্ষমতা নেই অনেক পরিবারের। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও নানা প্রতিযোগিতা ও খেলার মাধ্যমে নতুন করে বাচার স্বপ্ন দেখছে গাজাবাসী।





