মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ট্রাম্প-স্টারমারের ঐকমত্য

ট্রাম্প-স্টারমার
ট্রাম্প-স্টারমার | ছবি: সংগৃহীত
0

নতুন মাত্রা পেয়েছে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা। হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। একই বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে ন্যাটো।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসময় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি বিশেষ করে, বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে পুনরায় হরমুজ প্রণালি খোলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। তারা দুজনই একমত হন, যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া অপরিহার্য।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ ২২টি দেশের একটি দল কাজ করছে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ‘এই ২২টি দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এদের অধিকাংশই ন্যাটোর সদস্য, আগে উল্লেখ করা অন্য দেশগুলোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সময় উপযুক্ত হলেই এটি নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করব, যাতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হয়।’

আরও পড়ুন:

এর আগে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় চালু করতে ব্যর্থ হলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দেয় ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করায় ইরানের তেল বিশ্ববাজারে ঢুকলেও, উত্তেজনার কারণে দাম স্থিতিশীল থাকছে না।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সংশ্লিষ্টতা না থাকলে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সবার জন্য খোলা। অন্যদিকে হরমুজ দিয়ে চলাচলের জন্য কিছু ট্যাংকারের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত আদায় করছে ইরান। তাদের দাবি, এটি জলপথে সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ।

বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরামকো এপ্রিল মাসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এশীয় ক্রেতাদের কাছে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ফলে এশিয়ার রিফাইনারিগুলোতে উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন:

এমন পরিস্থিতিতে তেহরানে সরকারপন্থি সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘ইরানের শক্তির সামনে ট্রাম্প কিছুই না এবং কিছুই করতে পারেন না; তিনি শুধু কথা বলেন। ট্রাম্প এবং ইসরায়েল দিনে দশবার দাবি করে যে তারা যুদ্ধে জিতে গেছে। তারা এখনও কিছুই অর্জন করতে পারেনি।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে, তা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

জেআর