ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা ইরানি বন্দর অবরোধ শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এই নির্দেশ কার্যকরের আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে জাহাজ চলাচল। সমুদ্রপথে জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা, লয়েড’স লিস্টের তথ্য, যুদ্ধবিরতির কারণে শনিবার শিপিং কোম্পানিগুলো বেশ কিছু জ্বালানি ট্যাংকার গালফ থেকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু রোববার ট্রাম্পের হুমকির পর তারা আচমকাই পিছু হটেছে।
লয়েড’স লিস্ট আরও বলছে, রোববার অন্তত দু’টি জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করতে এসেও উল্টো পথে ফিরে গেছে। যার একটি মাল্টা ও অপরটি পাকিস্তানের পতাকাবাহী। এগুলো যথাক্রমে ইরান ও আরব আমিরাতে যাওয়ার কথা ছিল। এছাড়াও বন্দরে জড়ো হয়ে আছে আরও বেশ কিছু ট্যাংকার।
এছাড়াও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জেরে বিশ্ববাজারে আবারও ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। অয়েল প্রাইস ইনডেক্সের তথ্য, প্রায় আট শতাংশ বেড়ে ১০২ ডলার ছাড়িয়েছে স্ট্যান্ডার্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম। একই হারে মার্কিন ক্রুড অয়েল বিক্রি হচ্ছে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৯৪ ডলারে। অথচ গেল বুধবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার পর ১০০ ডলারের অনেক নিচে নেমে এসেছিল অপরিশোধিত তেলের দর। কারণ চুক্তির একটি বড় বিষয় ছিল হরমুজ সচল করা।
আরও পড়ুন:
তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় ধাক্কা লেগেছে এশিয়ার শেয়ার বাজারে। দক্ষিণ কোরীয় কোস্পি সূচকের দর পতন হয়েছে সর্বোচ্চ ১.৮৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে আছে জাপানের নিক্কেই 225, দর পড়েছে ০.৮৪ শতাংশ। ট্রাম্পের হুমকি আর যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের কারণে প্রতি সপ্তাহেই এশিয়ার শেয়ার বাজারে এই ছন্দপতন খেয়াল করা যাচ্ছে।
ধস নেমেছে মার্কিন শেয়ারবাজার ও বৈশ্বিক স্বর্ণের বাজারেও। ট্রাম্পের ঘোষণার প্রভাবে ডোও জোন্স, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক-এর সূচকগুলোর এক শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে স্বর্ণের দাম। নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে জুনে বিক্রির জন্য রাখা প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৭০০ ডলারের নিচে নেমে গেছে।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় হরমুজ সচলের আশা এক প্রকার বাদ দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সহজে এই সংকটের সমাধান হবে না এমন আশঙ্কায় বিকল্প উপায়ে সংকট মোকাবিলা করছে তারা। ইস্ট-ওয়াস্ট পাইপলাইনের মেরামতের কাজ এরইমধ্য শেষ করেছে সৌদি আরব। যা দিয়ে প্রতিদিন ৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন করা যায়।
সচল হয়েছে সৌদির মানিফা তেল শোধনাগারও। দেখা যাচ্ছে এরইমধ্যে হরমুজে তেলবাহী জাহাজ ও সাধারণ নৌযানের সংখ্যা কমিয়ে ফেলেছে উপসাগরীয় দেশগুলো। যা ইঙ্গিত করে বিকল্প পথে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পথে গালফ অঞ্চল।





