গেল ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবার সরাসরি শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে ইসরাইল-লেবানন। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর দু’পক্ষ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। যেটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বলছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা বৈঠকের কথা রয়েছে যেখানে চলমান দশ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের এই আলোচনায় মূলত দেশটিতে ইসরাইলি আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ, লেবানন থেকে ইসরাইলিদের প্রত্যাহার, কারাবন্দিদের মুক্তি, আন্তর্জাতিক সীমানায় সেনা মোতায়েন এবং যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্থাপনা মেরামত-এসব বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়া হবে।
দু’দেশের মধ্যে যখন আলোচনার এমন প্রেক্ষাপট-সেই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ড্রোন হামলায় এক সাংবাদিকসহ পাঁচজন নিহতের খবর দিলো আল-জাজিরা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরাইলিরা সাংবাদিকদের আশ্রয় নেয়া ভবনটিতে হামলা চালায়। যদিও বিবৃতিতে এটি স্বীকার করেনি আইডিএফ।
আরও পড়ুন:
গত মাসেও দক্ষিণ লেবাননে প্রেস-নেমপ্লেটযুক্ত গাড়িতে ইসরাইলি হামলায় তিনজন সাংবাদিক নিহত হন।
সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ইসরাইলি আর্টিলারি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিপরীতে আইডিএফ বলছে, ইসরাইলি সেনাসদস্যকে লক্ষ্যবস্তু করা হিজবুল্লাহর একটি বিমান প্রতিহত করেছে তারা।
২০২৪ সালে ইসরাইলের পেজার ও ওয়াকি-টকি বিস্ফোরণে হাসান নাসরাল্লাহসহ হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়। এরপর থেকেই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু। যদিও উত্তেজনা যেন আর না বাড়ে সেজন্য লেবানন সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এতদিন ইসরাইল তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে আবার লড়াই শুরু হয়। তারপর থেকে দু’পক্ষের উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।





