ইয়েমেনে সৌদি জোট-হুথিদের সংঘর্ষ; মানবিক সংকটে আট লাখ বাসিন্দা

হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব
হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব | ছবি: সংগৃহীত
0

ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম তাইজ শহরের একাধিক ফ্রন্টে সৌদি জোট ও হুথিদের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘর্ষে হতাহত হয়েছে দুইশ’র বেশি হুথি যোদ্ধা। শহরটির আট লাখের বেশি বাসিন্দা চরম সংকটে মধ্যে রয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সৌদির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা। এদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যেই রিয়াদে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সৌদি যুবরাজ। আর দেশটিতে ভ্রমণে নাগরিকদের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস। এছাড়া দু’পক্ষের সংঘর্ষে সৌদিতে আটকা পড়েছেন বহু ওমরাযাত্রী।

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদির রাষ্ট্রয়াত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভবনের বেশ কয়েকটি তলায় আগুন ধরে যায়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও, হতাহতে খবর পাওয়া যায়নি।

হুথি গোষ্ঠী জানিয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালাচ্ছে তারা। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সৌদি আরব ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমের তাইজ প্রদেশে সংঘর্ষে গেল একদিনে হতাহত হয়েছে দুইশ’র বেশি হুথি যোদ্ধা। তাইজের বেশ কয়েকটি ফ্রন্টে দু’পক্ষের মধ্যে চলছে তীব্র লড়াই। এছাড়া ধ্বংস করা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসহ সামরিক যান ও ট্যাংক।

এদিকে হুথি গণমাধ্যমের প্রকাশিত এক ফুটেজে দেখা যায়, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের ধুবাব বিমানবন্দরের কাছে বেশ কয়েকটি সামরিক যানবাহন আগুন জ্বলছে। গোটা সড়কেই সারি সারি সামরিক যান থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে।

হুথি গোষ্ঠী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের চলমান সংঘাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ইয়েমেনের তাইজ শহর। অঞ্চলটির দখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে বেশ কয়েকদিন ধরে। চলমান সংঘাতের জেরে আট লাখ মানুষের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন:

জাতিসংঘ জানিয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে এসব এলাকায় সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

এমন অবস্থায় ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রিয়াদের বৈঠক করেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সম্মত হয়েছেন দু’নেতা। এসময়ই রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে পবিত্র মক্কা ও মদিনাতে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে হুথিরা। তবে সৌদির অন্যান্য বিমানবন্দরগুলো এখনো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবে ওমরা করতে এসে আটকা পড়েছেন অনেকেই। আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় যাত্রীরা।

হজ করতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার সময় আমি সেখানে ছিলাম। খুব উদ্বেগের মধ্যে দিয়ে দিন কেটেছে। যারা এর জন্য দায়ী, তারাও ধ্বংস হবে।’

অন্য একজন বলেন, ‘আমরা ক্রমাগত ফোনে সতর্কবার্তা পাচ্ছি। প্রচণ্ড দুশ্চিতায় আছি। পরিবার ও নিজেকে নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন। জানি না এ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সৌদি অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় করা এবং তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর উচ্চবিলাসী পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লেগেছে।

এসএস