আরব ইসরাইলিদের স্বার্থের জন্য কাজ করা ইসলামপন্থী, জাতীয়তাবাদী কিংবা কমিউনিস্ট দলগুলোর জোটের সামনে রীতিমতো ধরাশায়ী জায়োনিস্ট শাসকগোষ্ঠী। ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে রাতারাতি কিংমেকার বনে যাওয়া আরব দলগুলোর উত্থান- নেতানিয়াহুর ১৯ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা।
শুক্রবার ঘোষিত ফলাফলে এগিয়ে থাকা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তাদের মিত্ররা ৫৩টি আসন পেলেও সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ৬১ আসন। আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করা নিয়ে তীব্র আপত্তি আছে কট্টর ডানপন্থী নেতানিয়াহুর। কাজেই বিরোধী জোটের দল ভাঙা ছাড়া আপাতত সহজ সমাধান নেই লিকুদ পার্টির সামনে। বিকল্প হতে পারে, লিকুদ পার্টি এবং বিরোধী জোটের প্রধান দলগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ বা মহাজোট গঠন করা। যদিও নেতানিয়াহুর জোটের রাজনীতি পছন্দ করেন না।
আরও পড়ুন:
রয়্যাল ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের কনসাল্টিং ফেলো ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেন, ‘এই মুহূর্তে নেতানিয়াহু ব্লকের আসন সংখ্যা ৫৩, আইসেনকোট ব্লকের ৪৮। আর তারপর আরবরা পেয়েছেন ১৮ বা ১৯। যারা ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব করেন। এটাই আসল বাস্তবতা। এখন জোট গঠনের জন্যে ব্যাপক কষাকষি ও নানা ধরনের লেনদেন চলবে।’
এদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের সুযোগ আছে আরবদের সঙ্গে জোট গঠনের। এখানে গাণিতিক হিসাবটা সহজ হলেও জায়োনিস্ট রাজনীতি আর আদর্শগত চ্যালেঞ্জ- বড় বাধা। কারণ জোটের শরীকদের মধ্যে ডানপন্থী ও রক্ষণশীলদের অংশ অনেক।
৪ নভেম্বর আসনভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ পেলে শুরু হবে রাজনৈতিক দর কষাকষি, জোট ভেঙ্গে বিরোধী শিবির থেকে আসন বাগানোর সূক্ষ্ম খেলা। তবে ইসরাইলি রাজনীতিতে এ ঘটনা নতুন কিছু না। এখনও পর্যন্ত ইসরাইলের কোনো দলই এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার পর সরকার গঠিত হয়। এখন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট আর আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ও বিরোধী জোট শরীক বাড়িয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে আবারও নির্বাচন হবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব থাকবে তৎকালীন মন্ত্রিসভারই।





