ন্যায্য মজুরি, নিয়মিত বেতন আর স্বস্তিতে জীবনযাপনের প্রত্যাশা—এই তিন দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের নামে পোশাক শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি আয়। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
এর পাশাপাশি কিছু কারখানায় বকেয়া বেতন পরিশোধ না করার অভিযোগও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে মিরপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা।
শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শ্রমিকদের সঙ্গে শুক্রবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যক্তিরা।
বৈঠকে শ্রমিকরা তুলে ধরেন তাদের সমস্যার কথা। তিন মাসের বকেয়া বেতন রোববারের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রমিক নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুন:
শ্রমিকনেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘বকেয়া বেতন পরিশোধ, শ্রমিকদের ছাঁটাই বন্ধ—এইসব দাবি আমরা আমাদের শ্রমিকদের পক্ষ থেকে করেছি এবং মন্ত্রী মহোদয় এই বিষয়ে বলবেন।’
অন্য একজন বলেন, ‘শ্রমিক ভাই-বোনেরা তারাও দাবি তুলেছেন যে, মজুরি বোর্ড আইন অনুযায়ী করতে হবে এবং আমরাও সেই কথা মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে করেছি এবং আমরা আশা করছি যে রোববারের মধ্যে এই মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।’
শ্রমিকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী জানান, রোববার থেকে শুরু হবে দাবি পূরণের কাজ। নির্দিষ্ট মহল অসন্তোষ তৈরি করতে চাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে। ইনশা আল্লাহ রোববারের সকাল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হবে এবং তাদের দেয়া যেসব বক্তব্য, আমি মনে করি তাদের বক্তব্যগুলো অবশ্যই আমাদের কিছু করণীয় আছে। আমরা যা যা বলেছেন, তা নিয়ে আমি তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটা একটা করে ইনশাআল্লাহ আমরা শ্রমিকদেরকে যেমন আমাদের যেমন শিল্পকারখানা রক্ষা করতে হবে, পাশাপাশি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দেয়া যেগুলো সেগুলোও আদায় করতে হবে।’
এসময় ঘোলা পানিতে যাতে কেউ মাছ শিকার করতে না পারেন, সে ব্যাপারে শ্রমিক নেতাদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।




