মার্কিন নারীর মৃত্যুতে আইসিইবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

আইসিইবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র
আইসিইবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র | ছবি: সংগৃহীত
0

অভিবাসন সংস্থা-আইসিই এজেন্টের গুলিতে মার্কিন নারী নিহতের জেরে বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। মিনিয়াপলিসের ফেডারেল ভবনের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে কয়েকজনকে। এদিকে আইসিইর তৎপরতা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সংস্থাটির অভিযানকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে বেশ কয়েকজন ফেডারেল অফিসারদের নামও।

ফুল ও মোমবাতি জ্বালিয়ে মিনিয়াপলিসবাসী স্মরণ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী এজেন্টের গুলিতে প্রাণ হারানো রেনি গুডকে। এক সপ্তাহ আগে ঠিক যেখানে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন তিনি, ঠিক সেখানেই তীব্র শীত উপেক্ষা করে সমবেত হন শহরের বাসিন্দারা। গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে প্রতিবাদ জানান মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আইসিই এজেন্টদের আগ্রাসী অভিবাসনবিরোধী অভিযানের।

এছাড়া ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বিভাগের তৎপরতা বন্ধে মিনিয়াপলিসের ফেডারেল ভবনের সামনে রাস্তায় নামে মানুষ। অনেকে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অভিবাসী এজেন্টদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের দমাতে রাসায়নিক স্প্রে ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে আইসিই। আহত হয় বেশ কয়েকজন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ায় আন্দোলনকারীরা। আটক করা হয় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাকে আটকে রাখার কোনো অধিকার তাদের নেই। আইসিই পুলিশ অফিসার নয়। আমাকে হয়রানি করতে ধাওয়া দিয়েছে তারা।’

আরও পড়ুন:

এদিকে মিনেসোটা ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে বাড়তে থাকা অভিবাসনবিরোধী অভিযান বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগপত্রে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব ক্রিস্টি নোয়েম ও আইসিই এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লিয়ন্সসহ অন্যান্য ফেডারেল অফিসারদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মিনেসোটায় আইসিইয়ের সাম্প্রতিক অভিযানকে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ফেডারেল সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছি, নগরবাসীকে হয়রানি বন্ধ করুন। আমাদের কাছে অনেক ফুটেজ আছে। অনেক জায়গায় ৫০ জন মিলে একজনকে আটক করছে। ভয়ে - আতঙ্কে মিনিয়াপলিসের শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে না। ব্যবসা- বাণিজ্যও স্থবির।’

এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকায় মিনেসোটায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ হয়রানি চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল জেনারেল কেইথ এলিসন।

তিনি বলেন, ‘মিনিসোটার নাগরিকদের ওপর আইসিই এজেন্টদের তৎপরতা বন্ধে কোর্টের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। মিনিসোটার স্থাপনায় মার্কিন অভিবাসন সংস্থা আক্রমণ বন্ধের বিষয়ে আমরা আদালতের কাছে নিশ্চয়তা চাই।’

মিনেসোটায় অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণের নামে অন্তত দুই হাজার আইসিই এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ । এছাড়া ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেরও মোতায়েন রয়েছেন আইসিই এজেন্ট।

এসএস