ইরান-তাইওয়ান ইস্যু, বিরল খনিজ ও বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরসহ নানা কারণে বিশ্ব অঙ্গনে এবার আগ্রহের কেন্দ্রবিদুতে ছিল ট্রাম্পের চীন সফর। তবে জাঁকজমকপূর্ণ ও আড়ম্বরতায় ভরা তিন দিনের বেইজিং সফর কোনো চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই শেষ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এবারের ট্রাম্পের সফরের বাড়তি কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক, অ্যাপলের সিইও টিম কুকসহ মার্কিন কর্পোরেট জগতের শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিতি। বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, রথী মহারথীদের উপস্থিতে কয়েকটি বড় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করবে দুই দেশ।
যদিও ওয়াশিংটনের ফেরার পথে ট্রাম্প দাবি করেন, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২০০টি জেট বিমান কিনতে সম্মত হয়েছে চীন। এছাড়া দেশটি আরও কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন:
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘সফরে বেশ কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি করেছি। এর মধ্যে বেইজিংয়ের কাছ থেকে ২০০টি জেট বিমান কেনার সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত আছে। এটি ভালোভাবে সম্পাদিত হলে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অর্ডার হতে যাচ্ছে।’
আর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনসহ কয়েক ধরনের কৃষি পণ্য কিনতে সম্মত হয়েছে চীন। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বলেও দাবি তার।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, শি- জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া ঐক্যমত্য বাস্তবায়নে উভয়পক্ষের কাজ করা উচিত।
এছাড়া বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, এবারের চীন সফরের মাধ্যমে ইরান ইস্যুতে বাস্তবসম্মত কোনো সমাধানে আসতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। কেননা ট্রাম্পের বেইজিং সফরের এক সপ্তাহ আগেই চীনে আসেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে ইরান ইস্যুতেও কোনো বড় ধরনের ঘোষণা আসেনি শি জিনপিং ও ট্রাম্পের কণ্ঠে। যদিও ট্রাম্পের দাবি তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বাতিলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্মত বেইজিং।
আরও পড়ুন:
এছাড়াও ইরানের থেকে তেল কেনা চীনের কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্পের চীন সফরকে একেবারে অর্থহীন ভাবতে নারাজ বিশ্লেষকরা। তাদের অভিমত, এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধ আরও ভয়াবহ আকারে রূপ নেয়ার ঝুঁকি আপাতত কমেছে। এছাড়া জটিল ইস্যুগুলোর সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র- চীন যে আলোচনায় আগ্রহী তাও স্পষ্ট হয়েছে ট্রাম্পের বেইজিং সফরে।
রাশিয়ার প্লেখানভ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আন্দ্রেই কোশকিন বলেন, ‘বর্তমান টালমাটাল বিশ্ব পরিস্থতিতে ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকের তাৎপর্য রয়েছে। উভয়পক্ষের গৃহীত পারস্পরিক পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হবে।’
প্রায় এক দশক পর গেল বুধবার (১৩ মে) বেইজিং যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরান যুদ্ধের কারণে অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এবারের চীন সফর কূটনৈতিক মহলে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।





 reacts as he holds a picture of Sonam Wangchuk-320x167.webp)